ক্রিকেটে ‘এলোমেলো বা অপরিকল্পিতভাবে আয়োজিত’ দ্বিপাক্ষিক সিরিজের দিন শেষ হওয়া উচিত। সঠিক প্রেক্ষাপট বজায় থাকলে একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ক্রিকেটও বিলুপ্ত হবে না, বরং আগামীতেও টিকে থাকবে, মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সানজোগ গুপ্ত।
গত বছরের জুলাইয়ে দায়িত্ব নেয়া সানজোগ গুপ্ত বার্তা সংস্থা পিটিআইকে সাক্ষাৎকারে জানান, ‘অর্থ ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার ছাড়া কেবল নামমাত্র দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন করা আর সম্ভব নয়। যেকোনো ক্রিকেট সিরিজের সফলতার জন্য চারটি মূল উপাদান- প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রয়োজন।’
‘৫০ ওভারের সংস্করণটি বিশ্বকাপগুলোতে পুরুষ ও নারী উভয় দলের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। তাই এই সংস্করণকে আমরা কোন জায়গায় দেখতে চাই এবং এটি কীভাবে আরও বিকশিত হতে পারে, সেদিকে আমাদের নজর দেয়া প্রয়োজন।’
ওডিআই ক্রিকেট ও অপরিকল্পিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। টি-টুয়েন্টি লিগগুলোর উত্থান এবং ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) চালুর পর ৫০ ওভারের ক্রিকেট কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সাউথ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ আগেই দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, সাবেক প্রোটিয়া তারকা জন্টি রোডস সম্প্রতি মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘টি-টুয়েন্টি আসার পর মনে করা হয়েছিল টেস্ট ক্রিকেট চাপে পড়বে, কিন্তু তা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে ৫০ ওভারের সংস্করণটি সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে।’
সম্প্রতি স্কটল্যান্ড ও কানাডার মধ্যকার ম্যাচটি ছিল ওডিআই ইতিহাসের ৫,০০০তম। ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে সাউথ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় পরবর্তী ওডিআই বিশ্বকাপ হবে।
আইসিসি সম্প্রতি ১৪ দলের এই টুর্নামেন্টের কাঠামো পরিবর্তন করে মূলপর্বের আগে ‘সুপার সিরিজ’ এবং সেমিফাইনালের আগে ‘সুপার ৭’ পর্ব যুক্ত করেছে। এর ফলে ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর কোয়ালিফাইং দলকে একটি ট্রাই-সিরিজ খেলতে হবে, সেখান থেকে মাত্র একটি দল মূলপর্বে সুযোগ পাবে। এই নতুন ফরম্যাটের তীব্র সমালোচনা করেছে সহযোগী দেশ ক্রিকেট স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেট বোর্ড (কেএনসিবি)।
উল্লেখ্য, ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর হতে যাওয়া আইসিসির পরবর্তী ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) চক্রের অধীনে আয়োজিত হবে ২০২৭ বিশ্বকাপ। চলতি বছরের শেষদিকে হংকংয়ে আইসিসির মিটিংয়ে পরবর্তী এফটিপি চক্র এবং আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।


