ঢাকার কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অবশেষে অপসারণ করা হয়েছে। ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কলাতিয়া খাল ও ব্রিজের নিচে জমে থাকা এসব বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করা হয়।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে পাওয়া অভিযোগটি কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ফরোয়ার্ড করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে স্থানটি পরিষ্কার করা হয়।
দীর্ঘদিনের ময়লার স্তূপে দুর্ভোগ
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলাতিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকার গৃহস্থালি বর্জ্য দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে কলাতিয়া খাল ও ব্রিজের নিচে ফেলা হচ্ছিল। দিনের পর দিন ময়লা জমতে জমতে সেখানে বড় ধরনের আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়।
এতে শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছিল তীব্র দুর্গন্ধ। বর্ষাকালে জমে থাকা বর্জ্য ও পানির কারণে পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগের সৃষ্টি করছিল।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছিল কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের ঠিক সামনেই ময়লার স্তূপ থাকায় প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীদের দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হতো। পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল।
অভিযোগের পর দ্রুত পদক্ষেপ
দীর্ঘদিনের এ সমস্যা নিয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগটি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর কলাতিয়া খাল ও ব্রিজের নিচে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ শুরু হয়। আবর্জনা সরিয়ে স্থানটি পরিষ্কার করা হলে স্বস্তি ফিরে আসে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মধ্যে।
স্থানীয়দের সন্তোষ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নিয়মিত ময়লা ফেলা হলেও সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে ময়লার স্তূপ ক্রমেই বড় হচ্ছিল এবং দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছিল।
‘হ্যালো ডিসি’তে অভিযোগ করার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে ময়লা অপসারণ করায় তারা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তবে ভবিষ্যতে যাতে সেখানে আবার ময়লা জমে না থাকে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাগরিক অভিযোগে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যেই ‘হ্যালো ডিসি’ সেবা চালু করা হয়েছে। নাগরিকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, নাগরিকদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে ‘হ্যালো ডিসি’ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ময়লার স্তূপের বিষয়টি অভিযোগের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে সেখানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে।
ফরিদা খানম বলেন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। কেউ যেন যত্রতত্র ময়লা না ফেলেন, সে বিষয়ে স্থানীয়দেরও সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘হ্যালো ডিসি’র মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এ উদ্যোগে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান হয়েছে, অন্যদিকে নাগরিক অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। তবে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের জন্য নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


