বুদ্ধিজীবী কেন স্বৈরাচারের দোসর হয়

বুদ্ধিজীবী কেন স্বৈরাচারের দোসর হয়

কিন্তু বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এমন একদল রয়েছেন, যাঁদের কাজ কোনো মত, বিশ্বাস বা মতাদর্শের মই ব্যবহার করে ক্ষমতার পক্ষে ওকালতি করা। তাঁদের তৈরি বয়ান ছাড়া স্বৈরাচারের পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব। স্তালিন, হিটলার, আইয়ুব বা হাসিনার জন্য এসব বুদ্ধিজীবী ঠিক ততটা জরুরি, যতটা জরুরি কোনো গাড়ি চলার জন্য জ্বালানির।

স্বৈরশাসকের নিজের অস্ত্র বন্দুক। বুদ্ধিজীবীর অস্ত্র তাঁর কলম ও ভাষা। ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক জর্জ অরওয়েল হাতে–কলমে দেখিয়েছিলেন, আমাদের নিত্যব্যবহার্য ভাষা ব্যবহার করে একদল বুদ্ধিজীবী কীভাবে স্তালিন অথবা হিটলারের মতো নির্মম স্বৈরশাসককেও অপরিহার্য প্রমাণ করতে পারেন।

রাজনৈতিক ভাষার একটা কাজ হচ্ছে সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য প্রমাণ করা। এ কাজ সবচেয়ে ভালো করতে সক্ষম দেশের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবীরা। তাঁরা জনপ্রিয়, সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা থাকে। ফলে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজার পক্ষ নিয়ে তেমন কোনো বুদ্ধিজীবী যখন কলম ধরেন, তা তিনি কবি, সাংবাদিক বা অভিনেতা যা-ই হোন, তাঁর কথা লোকে মন দিয়ে শোনে, সে কথায় আস্থা স্থাপন করে। তাঁদের ওকালতিতে শুধু মিথ্যা নয়, ঠান্ডা মাথার গুম-খুনও পার পেয়ে যায়।

Scroll to Top