নির্ধারিত সময়েই আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশ | চ্যানেল আই অনলাইন

নির্ধারিত সময়েই আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশ | চ্যানেল আই অনলাইন

গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।

বাইপাইলে প্রকল্পের একটি সমন্বয় সভা শেষে বাসসের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় প্রয়োজন। সচিব জানান, প্রকল্পের প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সার্ভিস লেন নির্মাণকাজ বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই দুটি সার্ভিস লেন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে।

নির্মাণকাজের কারণে জনদুর্ভোগ কমাতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রেখে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর বাস্তব নির্মাণ অগ্রগতি হয়েছে ৬৫ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই এক্সপ্রেসওয়ের নির্বাচিত কয়েকটি অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দেশের দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে পরিচিত ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর। রাজধানীর যানজট কমানোর পাশাপাশি ঢাকা ও দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকল্পের মূল এলিভেটেড অংশের দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার। এর সঙ্গে ১০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৪টি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া নবীনগরে ১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার এবং আশুলিয়া-ধউর বাঁধ সড়ক বরাবর ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় আরও ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ ডাক্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি মডেলে বাস্তবায়িত হলেও ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি বিদেশি ঋণের অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে। চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (চায়না এক্সিম ব্যাংক) প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। আর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে চীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরাসরি এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-জামালপুর, ঢাকা-মানিকগঞ্জ-তেঁতুলিয়া এবং ঢাকা-মাওয়া-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

এর ফলে রাজধানীর যানজট কমানোর পাশাপাশি দেশের সড়ক পরিবহন নেটওয়ার্ক আরও কার্যকর ও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনকে নির্ধারিত হারে টোল পরিশোধ করতে হবে।

Scroll to Top