যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ | চ্যানেল আই অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ | চ্যানেল আই অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুপ্রিম কোর্ট তার আগের উদ্যোগ খারিজ করে দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি এই বিষয়ে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প নতুন আদেশগুলোর ঘোষণা দেন। এর একটি আদেশে এমন অ-নাগরিকদের পরিধি বাড়ানো হয়েছে, যাদের সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না। অন্য আদেশে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতে গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি বহু বছর আগেই হওয়া উচিত ছিল। এখন আমরা সেই পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ একই সঙ্গে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আগের উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, দেশটিতে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সব ব্যক্তি জন্মসূত্রেই মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। কেবল বিদেশি কূটনীতিক ও বিদেশি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সন্তানরা এ সুবিধার বাইরে থাকে।

নতুন নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এমন দুই বাবা-মায়ের সন্তান কেবল যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাবে না, যদি বাবা-মায়ের একজন বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হন, কোনো বিদেশি সরকারের কর্মকর্তা হন, প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করে থাকেন অথবা এমন কোনো মার্কিন ভূখণ্ডে বসবাস করেন যেখানে ফেডারেল আইনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় না।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগকে কেন্দ্র করে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বেড়েছে এবং এর সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছেন। প্রেসিডেন্টের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক উপদেষ্টা ও হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, অনেকেই পর্যটক সেজে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেন, যাতে সেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হয়ে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারে।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে এটি ট্রাম্পের প্রথম উদ্যোগ নয়। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে থাকা এই অধিকার সীমিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আইনি লড়াই শেষে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই নীতি কার্যকর হতে দেয়নি এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা বহাল রাখে।

Scroll to Top