প্রেসিডেন্ট’স কাপ: বাংলাদেশের আতিথেয়তা-মুগ্ধ বিদেশি আর্চাররা | চ্যানেল আই অনলাইন

প্রেসিডেন্ট’স কাপ: বাংলাদেশের আতিথেয়তা-মুগ্ধ বিদেশি আর্চাররা | চ্যানেল আই অনলাইন

টঙ্গীর মাঠে যখন তীর ছুটছিল, প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তখন গড়ে উঠছিল নতুন বন্ধুত্বের গল্প। বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবার আয়োজিত ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়া প্রেসিডেন্ট’স কাপ ও যৌথ ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশ নেয়া ভিন্ন সংস্কৃতি-গল্পের মেলবন্ধনে জমে উঠেছিল চারপাশের বাতাস। অংশ নেয়া বিদেশি খেলোয়াড় ও কোচরা মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের আতিথেয়তায়।

টঙ্গীর আর্চারি ট্রেনিং একাডেমিতে চারদিন ধরে ছিল এক ভিন্ন ধরনের আয়োজন। প্রথাগত টুর্নামেন্টের চেয়েও বেশি জোর দেয়া হয়েছিল সম্পর্ক গড়ার উপর। ১৭টি দেশের ১১৪ জন আর্চার ও কর্মকর্তা এসেছিলেন ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়া প্রেসিডেন্ট’স কাপ ও যৌথ ট্রেনিং প্রোগ্রামে।

মাঠে চলছিল সিনিয়র ও অনূর্ধ্ব-১৮ দলের রিকার্ভ পুরুষ-নারী একক এবং মিশ্র দলীয় প্রতিযোগিতা। আলোচনা হচ্ছিল বাংলাদেশের আতিথেয়তা নিয়ে। ভারতীয় দলের ফিজিও থেরাপিস্ট প্রথমবার এসেই প্রেমে পড়েছেন বাংলাদেশের। তিনি বললেন, ‘আমি আবারও এখানে আসতে চাই। এখানকার আথিতেয়তা-মানুষ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’ ভারতীয় দলের টিম ম্যানেজার রানজিত রাজেন্দ্রা বললেন, ‘এখানকার খাবার-ট্রান্সপোর্ট সবই ছিল অসাধারণ। বাংলাদেশ আমাদের যথেষ্ট নিরাপত্তা দিয়েছে।’

মাঠের বাইরের আন্তরিকতা মুগ্ধ করেছে বিদেশিদের। লাল-সবুজের মাটিতে তারা যেন খুঁজে পেয়েছেন নিজের দেশকে। পাকিস্তান আর্চারি দলের সৈয়দ এজাজ আলী জানালেন, ‘ঢাকায় এসে আমার মনে হচ্ছে আমি পাকিস্তানেই আছি। আমার কাছে নিজের বাড়ির মতোই মনে হচ্ছে সবকিছু।’ ফিলিপিন্স কোচ লেডি মারছেলিনা বললেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে যেসব নেতিবাচক মনোভাব ছিল, তা এখানে এসে মুছে গেছে। আমরা এখানে খুবই নিরাপদ অনুভব করছি। এখানকার খাবার খুবই মজা।’

‘এখানকার মানুষের ব্যবহার ও পরিবেশ এমন যে, প্রতিযোগিতার চাপও কমে যায়’- বলেছেন অনেকে। মালয়েশিয়ার আর্চার মোহাম্মদ দানিশ বললেন, ‘আমি এখানকার সবকিছুর জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আমি এখানে আসতে পেরে আনন্দিত।’

ভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের মিশ্র ইভেন্ট একই সাথে খেলানোর বিষয়টি বেশ আনন্দ দিয়েছে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের সদস্য ভাশনাবি কুলকারনিকে। তিনি বললেন, ‘আমরা তাদের না চিনলেও এক হয়ে খেলার বিষয়টি ছিল সত্যিই আনন্দদায়ক।’

আয়োজনের উদ্দেশ্যকে সফল মনে করছেন ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপলও।শেষদিনে পদক দেয়া হয় বিজয়ীদের। কিন্তু অনেকের কাছে সেই পদকের চেয়েও বড় উপহার ছিল বাংলাদেশের উষ্ণ অভ্যর্থনা। এই আয়োজন তাই শুধু একটি টুর্নামেন্ট হয়ে থাকল না, জন্ম দিলো বন্ধুত্বের এক নতুন অধ্যায়।

Scroll to Top