
নিউ ইয়র্ক, ১ আগস্ট – বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান দাবানল ও চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মাঝে এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই আবহাওয়া পরিস্থিতি আগামী মাসগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করবে। এর ফলে তাপপ্রবাহ, খরা এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাব কেবল দোরগোড়ায় নয়, বরং এটি ইতিমধ্যে আমাদের আবহাওয়ায় ঢুকে পড়েছে এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি এটিকে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি ইতিমধ্যেই জ্বলতে থাকা বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্ধন যোগাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে পারে। এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা জলবায়ু ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করবে।
মহাসচিব গুতেরেস দেশগুলোকে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানি বিশেষ করে কয়লা, তেল ও গ্যাসের নতুন প্রকল্প বন্ধ করার আহ্বান জানান।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার মতো অঞ্চলগুলোতে তাপমাত্রার এই ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে। সংস্থাটির মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো মনে করেন, কেবল পূর্বাভাস দিলেই হবে না, বরং সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারগুলোকে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বছরের শেষ দিকে এল নিনো তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
এনএন/ ১ আগস্ট ২০২৬





