বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতায় সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সরকারি সেবায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোনো জনগোষ্ঠী যেন পিছিয়ে না থাকে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে গ্রামীণফোন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও টেলিনরের যৌথ উদ্যোগে ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, সরকারি সেবা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে, সেজন্য তাদের ডিজিটাল দক্ষতায় সক্ষম করে তোলা জরুরি। অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি মানুষের দক্ষতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে আটটি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ৪০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ভিশনকে আরও শক্তিশালী করবে।
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোন তাদের ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে। একই সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের অর্জনও তুলে ধরা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) বলেন, কার্যকর ডিজিটাল সংযোগ শুধু নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গ্রামীণফোনের এই উদ্যোগ ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের একটি সফল উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের হেড অব এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলাম এবং ডিজিটাল ইনক্লুশন লিড তাজরিবা খুরশীদ উদ্যোগটির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পরে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, জিএসএমএর সিনিয়র মার্কেট এনগেজমেন্ট ম্যানেজার গগনদীপ মনচান্দা, টেলিনর এশিয়ার চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মনীষা ডোগরা, গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ এবং চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান উদ্যোগটির কয়েকজন সুবিধাভোগীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তারা জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে অর্জিত ডিজিটাল দক্ষতা তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
গ্রামীণফোন জানায়, কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে দেশের ৩২টি জেলায় ৩৩ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো হয়েছে, যার প্রায় ৬৮ শতাংশই নারী ও কিশোরী। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ৪০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে সুবিধাভোগীদের অন্তত ৭০ শতাংশ নারী ও কিশোরী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ইন্টারনেটভিত্তিক শিক্ষা, অনলাইন সরকারি সেবা গ্রহণ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।



