আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই আসরকে সামনে রেখে উন্মোচন করা হয়েছে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল লোগো। একই অনুষ্ঠানে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেকনোকে প্রতিযোগিতাটির অফিসিয়াল টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ), বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং টেকনো বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লোগো উন্মোচন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর ক্ষণগণনা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল, বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম, সার্কভুক্ত সাতটি দেশের ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা, জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল প্রতিযোগিতার লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি টেকনোকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের অগ্রগতির জন্য শক্তিশালী অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টেকনোর সঙ্গে এই সহযোগিতা প্রতিযোগিতার প্রচার, দর্শক সম্পৃক্ততা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
পরে বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার মাধ্যমে উন্মোচন করা হয় ‘টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬’-এর অফিসিয়াল লোগো। লোগো প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় টুর্নামেন্টের প্রচারণা কার্যক্রম।
অনুষ্ঠানে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল এবং আইস্মার্টু টেকনোলজি বিডি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক টাইটেল স্পন্সরশিপ চুক্তিপত্র বিনিময় করেন।
এ সময় বাংলাদেশকে স্বাগতিক দেশ হিসেবে তুলে ধরে একটি বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনীও উপস্থাপন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী সাতটি দেশের ফুটবল ঐতিহ্য এবং আসন্ন প্রতিযোগিতার আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়।
আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এটি হবে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। এর আগে ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ।
২০০৩ সালে স্বাগতিক বাংলাদেশ মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের একমাত্র সাফ শিরোপা জিতেছিল। এছাড়া ১৯৯৯ ও ২০০৫ সালে বাংলাদেশ রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে।
আসন্ন প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। আগামী সেপ্টেম্বরে ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে চারটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির অধীনে জাতীয় দল দুটি পৃথক প্রস্তুতি ক্যাম্প করবে, যাতে ঘরের মাঠের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে অংশ নিতে পারে।
আগামী ১ আগস্ট ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র। সেদিনই নির্ধারিত হবে গ্রুপ পর্বে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা হবে।
প্রয়োজনে এটিকে আরও সংবাদপত্র-উপযোগী, প্রাঞ্জল বা এসইও-বান্ধব ভাষায়ও রূপান্তর করে দিতে পারি।




