
ঢাকা, ২৫ জুলাই – রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে উদ্ধার করা শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বা বোমাটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার শোভাযাত্রাকে লক্ষ্য করে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। রথযাত্রার মিছিলটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় পুলিশ জায়গাটি ঘিরে রাখে এবং পরে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মো. মুক্তা। মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান তালুকদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উল্টো রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে নাশকতার উদ্দেশ্যে সেখানে বোমাটি রাখা হয়েছিল। তবে সময়মতো শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে পারায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রথযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত ছিলেন। শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে স্বামীবাগ আশ্রম পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল। সন্ধ্যার দিকে ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে মতিঝিলে একটি বোমাসদৃশ বস্তুর উপস্থিতি জানা যায়। একটি ছাতার ভেতর রাখা ওই বোমায় আলো জ্বলতে দেখা যাচ্ছিল।
খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের জেনারেটর রুমের পাশে ছাতাসহ বোমাটি ঘিরে ফেলে। সেই সময় রথযাত্রার মিছিলটি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ সদস্যরা শর্ট সার্কিট হওয়ার অজুহাতে তাদের জায়গাটি এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। মিছিলটি নিরাপদে চলে যাওয়ার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা এসে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি ধ্বংস করেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে লোহার পাইপের অংশ, ব্যাটারি এবং বেয়ারিং বল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই পরিকল্পি নাশকতার চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রথযাত্রার উৎসবকে লক্ষ্য করেই বোমাটি রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিক সন্দেহ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত চলছে।
এনএন/ ২৫ জুলাই ২০২৬





