এবার কোরিয়ানদের চেনা মন্ত্র পাল্লি পাল্লি (বাংলায় জলদি জলদি) মেনে দ্রুত ট্যাক্সি বুক করে পৌঁছালাম সংসানপো পোর্টে। টিকিট কেটে উঠে পড়লাম শিপে। প্রতি ঘণ্টায় দুটি করে শিপ ছাড়ে। শিপের ভেতরেই ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ করে নিলাম এবং আমরা চলে গেলাম টপ ডেকে। ওপর থেকে সমুদ্রের ভিউ উপভোগ করতে করতে প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম আমাদের কাঙ্ক্ষিত উ-দো আইল্যান্ডে।
নেমেই আর ডানে–বাঁয়ে না তাকিয়ে, সময় নষ্ট না করে দরদাম করে সাইকেল ভাড়া করে নিলাম। এরপর টানা কয়েক ঘণ্টা সাইকেলিং করে পুরো উ-দো দ্বীপটা ঘুরে দেখলাম। দ্বীপের লাইটহাউজ, গ্রিনল্যান্ড আর স্থানীয় বাড়িঘরগুলোর সৌন্দর্য সত্যিই মন কেড়ে নেওয়ার মতো। সাইকেল রিটার্ন করে যখন ফিরতি শীপে উঠলাম, তখন শরীরে বেশ ক্লান্তি। সাইকেলিং করে ক্লান্ত থাকায় ফিরতি পথে আর ছাদে যাওয়া হলো না।
সংসানপো পোর্টে নেমে ট্যাক্সির জন্য প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হলো। এরপর ট্যাক্সি চেপে চলে গেলাম ইউনেসকো হেরিটেজ সাইট ইলচুলবংয়ের পাদদেশে। নেমেই রওনা হলাম; কারণ, ততক্ষণে আকাশে মেঘ ঘনিয়ে এসেছে, দিনের আলোও নিভু নিভু। দেরি না করে উঁচু পথ বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করলাম। যতই ওপরে উঠছি, চারপাশের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছি এবং মনে হচ্ছিল জেজু আসাটা সত্যিই সার্থক। এই অসাধারণ হেরিটেজটি উপভোগ করলাম। ফটোগ্রাফিক জোনে যখন পৌঁছালাম, তখন ফিলিপাইনের একজন মেয়ে দর্শনার্থী আমার কাঙ্ক্ষিত ছবিটি তুলে দিয়ে সহযোগিতা করলেন। আমিও তাদের ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিলাম। ইতিমধ্যে হালকা হাওয়া এবং ঝিরিঝিরি ফোটায় উইন্ড ব্রেকারটি ভেজা শুরু করেছে।

