ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চারটি প্রতিষ্ঠানের আটটি ভেরিয়েন্টের পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
সোমবার (২০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, পরীক্ষায় কোনো কোনো পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি এবং মানমাত্রার ব্যত্যয় পাওয়া গেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজার থেকে এসব পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসটিআইয়ের তথ্যে জানায়, ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেস-এর আমের আচার (ব্যাচ নম্বর: এফজিএমপি২০০জি০৪২৬)-এ মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে। কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রটোন্ডো হাজেলনাট কোটেড চকলেট আইসক্রিমে (ব্যাচ নম্বর: ২৬০৫০১০১এ) টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাটের পরিমাণ বাংলাদেশ মানের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেড-এর লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন (ব্যাচ নম্বর: ২৯৬১১০৪এ), এলোভেরা স্কিন লোশন (ব্যাচ নম্বর: ২৯৬১২০৪এ), অলিভ ও লাবণ্য ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ মোরিংগা+মাচা (ব্যাচ নম্বর: ২৯৫১৪০৪এ), ফোমিং মিল্ক ও তুলসী (ব্যাচ নম্বর: ২৯৫১২০৪এ) এবং লাবণ্য ব্র্যান্ডের এলোভেরা শ্যাম্পুতে (ব্যাচ নম্বর: ২৯২১৩০৪এ) মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে ডেকো ফুডস লিমিটেড-এর ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ভেরিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে (ব্যাচ নম্বর: ১৩৩) বাংলাদেশ মান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে কম ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া গেছে।
বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা এবং বাজার থেকে এসব পণ্য দ্রুত প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করবে বিএসটিআই। নির্দেশ অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, মানসম্মত পণ্য পাওয়া জনগণের অধিকার এবং সে অধিকার নিশ্চিত করতে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা বা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত সংস্থাটিকে জানাতে আহ্বান জানান।



