টানা ২০ দিনের অনশন কর্মসূচি ভাঙতে সম্মতি জানিয়েছেন ভারতের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিনটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি দিল্লির একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
আজ (২০ জুলাই) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ২৮ জুন থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার (১৯ জুলাই) সকালে দিল্লি পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
রোববার (২০ জুলাই) হাসপাতাল থেকেই সোনম ওয়াংচুক জানান, সরকার তিনটি শর্ত পূরণের আশ্বাস দিলে তিনি অনশন ভাঙতে প্রস্তুত। তার প্রথম শর্ত, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের দায় সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে তিনি দাবি করেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সংসদে আলোচনার জন্য উত্থাপন করতে হবে। তৃতীয় শর্তে তিনি বলেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের হাসপাতালে এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে এবং আগের দুটি শর্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দিতে হবে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও অনশন অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এদিকে তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন করে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তার স্ত্রী। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নির্ধারিত সংসদ অভিযানে অংশ নিতে না পারলেও সমর্থকদের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। হাসপাতালের শয্যা থেকেই তিনি আন্দোলন সফল করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



