গোসল করানো ৫ মাসের ইয়ামালই ফাইনাল প্রতিপক্ষ মেসির, কী সেই ছবির ইতিহাস | চ্যানেল আই অনলাইন

গোসল করানো ৫ মাসের ইয়ামালই ফাইনাল প্রতিপক্ষ মেসির, কী সেই ছবির ইতিহাস | চ্যানেল আই অনলাইন

টানা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেমিতে ফ্রান্সকে হারিয়ে স্পেন, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনাল নিশ্চিতের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও সয়লাব হয় ১৯ বছর আগের একটি ছবি। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনায় একটি চ্যারিটি ফটোশুটের অংশ হিসেবে ৫ মাস বয়সী শিশু লামিন ইয়ামালকে গোসল করাতে সাহায্য করেছিলেন তৎকালীন ২০ বর্ষী মেসি। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিশ্বকাপে চূড়ান্ত লড়াইয়ে কিংবদন্তি মেসির মুখোমুখি সেই ইয়ামাল। আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়ে স্পেনকে ফাইনালে নিয়ে এসেছেন যে ১৯ বর্ষী ইয়ামাল।

রোববার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত একটায় বিশ্বকাপের ফাইনালে নামবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বিশ্বজয়ের মহা-লড়াইয়ের আগে জেনে নেয়া যাক কীভাবে ফুটবল ইতিহাসের দুই প্রজন্মের দুই নায়ক সেদিন একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হয়েছিলেন। কী ছিল সেই ছবির পেছনের গল্প।

ছবিটি ছিল বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও কাতালান দৈনিক ‘দায়ারিও স্পোর্ত’র একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুট। প্রতিবছর ক্লাবের ফুটবলারদের সঙ্গে শিশুদের ছবি তুলে সেই ক্যালেন্ডার বিক্রি করা হতো এবং লভ্যাংশ যেত ইউনিসেফসহ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। বার্সা স্কোয়াডের ১২ জন ফুটবলারকে বছরের ১২টি মাসের প্রতীক করে ১২ জন শিশুর সঙ্গে ফ্রেমবন্দি করা হতো। অনেক পরিবারই অংশ নিয়েছিল সেখানে। যার বেশিরভাগ ছবি কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে, কিছু ছবি রয়ে গেছে শুধু কিছু পরিবারের ব্যক্তিগত অ্যালবামে।

তবে নিয়তি হয়তো অন্যভাবে লেখা ছিল। সেই লটারিতে মেসির জোড়া হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের মাতারো শহরের এক সাধারণ পরিবারের শিশু, যিনি আজ মাঠের খেলায় ফুটবলবিশ্বকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে খোদ মেসিকেই।

ঐতিহাসিক ছবিটি ক্যামেরাবন্দি করা আলোকচিত্রী হুয়ান মনফোর্ত সেদিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে জানিয়েছেন, ছবিটি তোলা মোটেও সহজ ছিল না।

২০০৭ সালের মেসি আজকের মতো বিশ্বসেরা মহাতারকা ছিলেন না, তিনি তখন কেবল এক উদীয়মান প্রতিভা। মনফোর্তের ভাষ্য, মেসি স্বভাবগতভাবে ভীষণ লাজুক ছিলেন এবং হঠাৎ একজন পাঁচ মাসের শিশুকে নিয়ে বাথটাবে দাঁড়াতে গিয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলেন। শুরুতে দুজনের মধ্যে কোন যোগাযোগ হচ্ছিল না। তবে এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ইয়ামালের মা শেইলা এবানার। মাতারো থেকে ছোট্ট শিশুকে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্প ন্যুতে এসে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছিলেন তিনি। শেষপর্যন্ত মায়ের আন্তরিক সহযোগিতায় মনফোর্ত ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কোমল ও আবেগময় এক ফ্রেম।

ছবি তোলার ৭ বছর পর, ২০১৪ সালে মাতারো শহর থেকে ক্যাম্প ন্যুতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করে ইয়ামাল। যোগ দেন বার্সেলোনার বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ ফুটবল একাডেমিতে। এরপর ২০২৩ সালের এপ্রিলে মাত্র ১৫ বছর বয়সে লা লিগায় অভিষেক এবং স্পেনের ২০২৪ ইউরো জয়ের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠা- সবটাই যেন কোন রূপকথাকে হার মানায়।

২০২৪ ইউরোর সময় ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি পোস্ট করলে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। মনফোর্ত নিজেও তখন জানতেন না বাথটাবের সেই পাঁচ মাসের শিশু আজকের স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। লটারিতে জেতার মতোই ক্ষীণ সম্ভাবনার এক কাকতালীয় ঘটনা তার জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত সৃষ্টিতে রূপ নেবে, সেটা যেন বড় বিস্ময় তার কাছেও।

ফুটবল ইতিহাসে এমন কাকতালীয় ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৮৬ সালে লা মাসিয়ার বল বয় হিসেবে থাকা ১৫ বছরের এক কিশোরের করতালি দেয়ার ছবিও বিখ্যাত হয়েছিল, যিনি পরে কিংবদন্তি কোচ পেপ গার্দিওলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তবে মেসি-ইয়ামালের এই বাথটাব ছবি সমকালীন সব ইতিহাসকে ছাপিয়ে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। প্রায় দুদশক আগে প্লাস্টিকের বাথটাবে মেসির কোলে জলকেলি করা সেই ৫ মাসের শিশু লামিন ইয়ামাল এখন মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারও।

আগামী রোববার নিউ জার্সিতে ইয়ামাল এবার মেসির মুখোমুখি হতে চলেছেন বিশ্বকাপ ট্রফির জন্য।

Scroll to Top