চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ধুঁকতে ধুঁকতে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছিল আর্জেন্টিনা। শেষ চারে তাদের সামনে ছিল ইংল্যান্ড। সেখানেও ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। তবে হার না মানা মানসিকতা ও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির দল। কাতার বিশ্বকাপের পর টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনাকে বিশ্বজয়ের মঞ্চে তোলার পর শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসালেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
ম্যাচ শেষে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্কালোনি। বলেছেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ। আমাদের দেশ ও দেশের মানুষের জন্য এটি একটি বড় আনন্দ। সেদিনই আমি বলেছিলাম যে এই দলটি আমাকে সবসময় বিস্মিত করে।’
‘এই দলটা চাপের মুখে নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দেয়। আর যখন রক্তের গন্ধ পায়, তখনই তারা জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। আজ যদি আমরা হেরেও যেতাম, তাও আমি খুশি থাকতাম। কারণ দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সাহসিকতা ও লড়াকু মনোভাব ধরে রেখেছিল, আমাদের যা করার দরকার ছিল আমরা ঠিক তা-ই করেছি।’
মিশর ম্যাচের চেয়েও ইংল্যান্ড ম্যাচকে এগিয়ে রেখেছেন স্কালোনি। বলেছেন, ‘ভেবেছিলাম মিশরের ম্যাচটাই সেরা ছিল। কিন্তু আজকের ম্যাচ সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, এটা তো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল! ইতিহাসে আগে কখনো এমন কিছু হয়েছে কি না আমি জানি না। ডিয়েগোর (ম্যারাডোনা) সেই দ্বিতীয় গোলটি যেমন ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে, ঠিক তেমনি খেলার মানের দিক থেকে আজকের ম্যাচটি ছিল অবিশ্বাস্য।’
আগামী ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে স্কালোনি জয়ের স্বপ্ন দেখালেন। বলেছেন, ‘আমরা জেতার চেষ্টা করব। সবকিছু উজাড় করে দেব। ফুটবলাররা মাঠে যা করে দেখাচ্ছে, তা সাধারণ মানুষকে বোঝানো খুবই কঠিন। আমরা অনন্য, আর এটা কোনো অহংকার নয়। এই দর্শক ও সমর্থকেরাই আমাদের জয়ের দিকে নিয়ে গেছে।’
বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনা জার্সির মর্যাদা ধরে রাখার বার্তা দিয়েছেন স্কালোনি। বলেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার দাবি রাখে এই জার্সি। কোনো কিছুই জমিয়ে রাখা যাবে না। খেলোয়াড়েরা আবারও প্রমাণ করেছে যে তারাও দেশের বাকি সবার মতোই এই জার্সির গুরুত্ব গভীরভাবে অনুভব করে।’




