সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে চেনা ছন্দ যেন খুঁজে পেল না ফ্রান্স। অপরাজিত থেকে সেমিতে ওঠা দলটি স্পেনের কাছে হেরেছে ২-০ গোলে। তাতে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ফরাসিদের। ম্যাচ হেরে রেফারির যোগ্যতা ও মান নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম। জানতে চেয়েছেন, আধৌ রেফারি ম্যাচ পরিচালনার জন্য যোগ্য কিনা?
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিলেও, ৩৫ বছর বয়সী ম্যাচ রেফারি ইভান বার্টনের ওপর নিজের ক্ষোভ ও হতাশা লুকাতে পারেননি দেশম। তার মতে, বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালের মতো মেগা ম্যাচ পরিচালনার কোনো যোগ্যতাই ছিল না এল সালভাদরের এই রেফারির।
বলেছেন, ‘রেফারিং নিয়ে… আমাদের হারের পর যদি আমি কিছু বলি, তবে আমাকে ক্রাই বেবি (কান্নাকাটি করা লোক) মনে হবে। কিন্তু আমি আপনাদেরই জিজ্ঞাসা করছি, এই রেফারি কি একটি সেমিফাইনাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত ছিলেন? চতুর্থ ও পঞ্চম রেফারি দারুণ ছিলেন। কিন্তু মূল রেফারি?’
পেনাল্টির সিদ্ধান্ত এবং রেফারির কিছু পক্ষপাতমূলক আচরণের দিকে ইঙ্গিত করে ফরাসি কোচ। বলেছেন, ‘পেনাল্টির বিষয়টি ছিল, তবে শুধু সেটিই নয়, সবকিছু মিলিয়েই এমনটা মনে হয়েছে। আজকের রেফারির বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ নেই, তবে আপনারা নিজেদেরই প্রশ্ন করে দেখুন। আমি শুধু যে আজ হেরেছি বলেই এ কথা বলছি তা নয়। মাঠে এমন আরও বেশ কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে কিছু পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।’
তবে রেফারির দিকে আঙুল তুললেও, যোগ্যতর দল হিসেবে স্পেনের ফাইনালে ওঠাকে পূর্ণ কৃতিত্ব দিয়েছেন দেশম। নিজেদের টেকনিক্যাল ব্যর্থতা ও দুর্বলতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। বলেছেন, ‘খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। কিন্তু আমাদের সৎ হতে হবে-আমরা টেকনিক্যাল দিক থেকে স্পেনের চেয়ে পিছিয়ে ছিলাম। আমাদের হারের মূল কারণ হলো, আমরা পারফরম্যান্সের কাঙ্ক্ষিত মান অনুযায়ী খেলতে পারিনি।’
নিজেদের ভুলের বিষয়গুলো টেনে দেশম বলেছেন, ‘আমরা মাঠে এমন কিছু টেকনিক্যাল ভুল করেছি এবং ভুল পাস দিয়েছি যা থেকে প্রতিপক্ষের গোলের সুযোগ তৈরি হতে পারত। আর এটি ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলা, এখানে ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলব। আমরা এই টুর্নামেন্টে যা অর্জন করেছি, আমি তার সবটুকু মুছে ফেলতে চাই না, তবে এই ম্যাচে স্পেন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ভালো খেলেছে।’


