সবুজ মাঠের জীবনপাঠ

সবুজ মাঠের জীবনপাঠ

পরদিন বিকেলে আকাশটা ছিল খানিকটা মেঘে ঢাকা। আশরাফ ভাইয়ার সঙ্গে মাঠের পাশ দিয়ে হাঁটছিল সাকিব। আশরাফ ভাইয়া হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন। একটা কৃষ্ণচূড়াগাছের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কাল মেসির পেনাল্টিটা দেখেছিস?’

সাকিব বলল, ‘হ্যাঁ ভাইয়া। ফাটাফাটি!’

‘ফাটাফাটি না রে পাগল, ঠান্ডা মাথা। চারদিকে অত চিৎকার, অথচ লোকটা কী শান্ত! জীবনটাও কিন্তু এই রকম। যখন চারপাশে খুব টেনশন থাকবে, তখন মাথাটা একদম ঠান্ডা রাখতে হয়। একটু এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু মিস। আর মিস হওয়া মানেই হতাশা।’

আশরাফ ভাইয়া একটু থামলেন। তারপর সাকিবের কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘আরেকটা জিনিস খেয়াল করছিস? মেক্সিকো কিন্তু গোল খেয়ে হতাশ হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে কামড় দিয়ে গোলটা শোধ করেছে। জীবনে ধাক্কা খাবি, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ধাক্কা খেয়ে শুয়ে পড়া যাবে না। ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’

সাকিব কথাগুলো শুনছিল। কাল রাতের ওই খেলাটার ভেতর যে এত বড় একটা শিক্ষা লুকিয়ে আছে, সে ভাবতেই পারেনি। সে মনে মনে ভাবল, সে কখনোই এই শিক্ষা বের করতে পারত না।’ আশরাফ ভাইয়া অনেক বই পড়ে, তাই সে পেরেছে। ভাইয়ার ঘরভর্তি বই আর বই!

Scroll to Top