আগামী ১৭ জুলাই দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’। মুক্তিকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক প্রচারণার ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছে ‘মাস্তুল’ টিম।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশনে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রটির লেখক ও পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ নূরুজ্জামান, অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু, দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, শিকদার মুকিত, চিত্রগ্রাহক মোহাম্মদ আরিফুজ্জামানসহ ছবির অন্যান্য কলাকুশলীরা।
আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাব (বিইউসিসি)-এর সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। পুরো সেশনটি পরিচালনা করেন স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান স্থপতি শেখ ইতমাম সউদ।
আলোচনায় উঠে আসে ‘মাস্তুল’-এর নির্মাণ-অভিজ্ঞতা, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের চ্যালেঞ্জ, শিল্পচর্চা এবং সিনেমার সামাজিক ও নান্দনিক ভূমিকা। নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নিজেদের কাজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন।
তারা বলেন, একটি চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজ ও জীবনকে নতুনভাবে দেখার একটি জানালাও হতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনপ্রিয় অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে পুরো টিমকে স্বাগত জানান এবং চলচ্চিত্র নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও কৌতূহল প্রকাশ করেন।
স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণে আলাদা সংগ্রাম আছে, আবার সমর্থনও পাওয়া যায়। এমনটা জানিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান বলেন, “পাওলো কোয়েলহোর একটা কথা আছে, ‘আপনি যদি হৃদয় থেকে কিছু চান, পুরো ইউনিভার্সের দায়িত্ব হয়ে পড়ে আপনার চাওয়া পূর্ণ করার।’ কখন কোথা থেকে সাহায্য পাবেন, জানা মুশকিল। ‘মাস্তুল’-এর জন্য একটা জাহাজ দরকার ছিলো, সেই জাহাজের এক দিনের রেন্ট যদি আমাদের দিতে হতো, তাহলে আমি এই সিনেমাটা করতে পারতাম না। আমি জানি না কী দেখে জাহাজ কোম্পানি আমাকে বিশ্বাস করেছে, স্রেফ আমার মুখের কথায় দিনের পর দিন তারা জাহাজটি আমাকে কোনো রেন্ট ছাড়াই ব্যবহার করতে দিয়েছে।”
এ সময় ‘মাস্তুল’-এর ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রচারণার দায়িত্বে থাকা টঙঘর টকিজের জুয়েইরিযাহ মউ সমসাময়িক সময়ে স্বাধীন চলচ্চিত্রের প্রচার, দর্শকের কাছে পৌঁছানোর কৌশল এবং সিনেমা বিপণনের পরিবর্তিত বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ভালো চলচ্চিত্রকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে নির্মাণের পাশাপাশি পরিকল্পিত প্রচারণা ও কার্যকর বিপণনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে স্থাপত্য বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তামান্না আবেদিনের আঁকা অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর একটি প্রতিকৃতি উপহার দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রাণবন্ত এই মতবিনিময় সভা।
উল্লেখ্য, এর আগে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই ধরনের ইন্টারেক্টিভ সেশনে অংশ নিয়েছিল ‘মাস্তুল’ টিম। মুক্তির আগে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তরুণ দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির এই প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে ছবির নির্মাতা ও কলাকুশলীরা। ১২ জুলাই বিকেল ৫টায় ‘মাস্তুল’ উপস্থিত থাকবে বুয়েট ক্যাম্পাসের মিলনায়তনে।



