২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল মরক্কো। এবার কোয়ার্টারেই দেখা হয়েছে দুদলের। তবে ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনি আফ্রিকান দেশটি। ফরাসিদের প্রথমার্ধে রুখে দিলেও দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দ হারায় আশরাফ হাকিমির দল। কাইলিয়ান এমবাপে ও উসমানে ডেম্বেলের গোলে মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে গতআসরের রানার্সআপ দলটি। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি স্পেন ও বেলজিয়াম ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে।
বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজিশন ধরে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। চতুর্থ মিনিটেই লিড নিতে পারতেন এমবাপে, তবে তার নিচু শটটি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মরক্কোর গোলকিপার বোনু। সেই কর্নার থেকে ডায়ো উপমেকানোর নেওয়া দুর্দান্ত হেডটিও অবিশ্বাস্যভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি। এরপর ১৮ মিনিটে উসমান দেম্বেলের একটি হেড পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের ২৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ পায় ফরাসীরা। বাম পাশ দিয়ে এমবাপে প্রতি আক্রমণে উঠলে বক্সে তাকে ফাউল করেন মরক্কোর ডিফেন্ডার সালাহ-এডিন। রেফারি সাথে সাথেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তবে স্পট কিকে পোস্টের ডান দিকের নিচের কোনা দিয়ে নেওয়া এমবাপের শটটি ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেন বোনু।
এই পেনাল্টি সেভ করার মাধ্যমে একটি অনন্য কীর্তি গড়লেন ইয়াসিন বোনু। বিশ্বকাপে এটি তার চতুর্থ পেনাল্টি সেভ, যা ১৯৬৬ সালের পর যেকোনো গোলরক্ষকের জন্য সর্বোচ্চ।
৩৫ মিনিটে মাঝমাঠে আইয়ুব বুয়াদ্দির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দারুণ এক আক্রমণ চালান ফ্রান্সের ডিজায়ার দুয়ে। কয়েকজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে তার নেওয়া জোরালো শটটি আরও একবার প্রতিহত করেন বোনু।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আরও একবার গোলবঞ্চিত হওয়ার হতাশায় পোড়ে ফ্রান্স। ডিফেন্ডার লুকাস ডিগনের দূরপাল্লার একটি গতিময় শট ক্রসবারে লেগে বাইরে চলে গেলে নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা পায় মরক্কো। ফলে শত চেষ্টা সত্ত্বেও গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যেতে হয় দুই দলকে।
বিরতির পর ম্যাচের ৬০ মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন এমবাপে। বক্সের কাছাকাছি জায়গা থেকে দারুণ এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন। তাতে চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৮ গোলে মেসিকে স্পর্শ করেন তিনি। বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে এমবাপের ২০তম গোল এটি, শীর্ষে থাকা মেসির গোল সংখ্যা ২১। এই ম্যাচে এমবাপে অবশ্য অন্য একটি কীর্তিতেও নাম লেখান। সবচেয়ে কম বয়সী (২৭ বছর ২০১ দিন) খেলোয়াড় হিসেবে ২০ ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েন। তাছাড়া ফ্রান্সের জার্সিতে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এটি। তার আগে সর্বোচ্চ ২০ ম্যাচ খেলেছিলেন হুগো লরিস।




