মিসরের গোলটি বাতিল হলো কেন, ফুটবলের রুলবুক কী বলছে

মিসরের গোলটি বাতিল হলো কেন, ফুটবলের রুলবুক কী বলছে

ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে বল নিয়ে আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। ঠিক তখনই সামনে এসে ট্যাকল করেন হুলিয়ান আলভারেজ। সালাহ পড়ে যান, আর আর্জেন্টিনা সঙ্গে সঙ্গে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে। প্রশ্ন ওঠে—লিসান্দ্রোর ঘটনায় যদি ফাউল ধরা হয়, তাহলে এখানে কেন নয়?

এর উত্তরও ফুটবলের রুলবুকের মধ্যেই রয়েছে।

‘যদি ডিফেন্ডার প্রথমে নিয়ম মেনে বল ক্লিয়ার করেন এবং পরবর্তী ট্যাকল স্বাভাবিক হয়, তাহলে সেটা সাধারণত ফাউল হিসেবে গণ্য করা হয় না।’

রিপ্লেতে দেখা যায়, হুলিয়ান আলভারেজের বুট প্রথমে সরাসরি বলে লাগে। এরপর নিজের গতির কারণেই সালাহ এসে আলভারেজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাই রেফারি এটিকে বৈধ ট্যাকল হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

তবে এখানে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি। ‘আগে বলে লাগলে ফাউল হবে না’—এমন কোনো লিখিত আইন কিন্তু নেই। এমন পরিস্থিতিতে রেফারিকে আরও দেখতে হয় যে ট্যাকল বেপরোয়া ছিল কি না, অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে কি না, কিংবা প্রতিপক্ষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে কি না। তাই আগে বল স্পর্শের পর ট্যাকল বিপজ্জনক হলে সেটা ফাউলও হতে পারে। কিন্তু হুলিয়ান আলভারেজের ট্যাকলের ক্ষেত্রে এমন কোনো উপাদান ছিল না।

বিতর্ক থাকবেই, কারণ ফুটবল এমনই। ভিএআর চালুর পর থেকে এমন বিতর্ক আরও বেড়েছে। ক্লাব ফুটবলে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই অফসাইড, পেনাল্টি কিংবা ফাউল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। একই ঘটনার ব্যাখ্যায় ভিন্ন ভিন্ন রেফারি ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেওয়ায় বিতর্কেরও শেষ থাকে না। আর এমনটা যদি বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে ঘটে, তাহলে সেই বিতর্ক আগুনে ঘি ঢালার মতোই ছড়িয়ে পড়ে।

তবে আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের এই দুটি সিদ্ধান্তই আইএফএবি-এর বর্তমান নীতি এবং ভিএআর প্রটকল-এর আলোকে ব্যাখ্যা করা যায়। সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হওয়া বা না হওয়া ভিন্ন বিষয়। কিন্তু সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি কী ছিল, সেটি বোঝাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অবশ্য বাস্তবতা হলো, ফুটবল বিতর্কে নিয়মের বই সব সময় শেষ কথা হয়ে ওঠে না। অনেক সমর্থক নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিকে চূড়ান্ত সত্য বলে মনে করেন। তাই একই ঘটনা একজনের কাছে নিখুঁত সিদ্ধান্ত, অন্যজনের কাছে স্পষ্ট অন্যায়। আর সেখান থেকেই ফুটবলের চিরন্তন বিতর্কের জন্ম।

Scroll to Top