মোহাম্মেদ সালাহ মিশরের সবচেয়ে বড় তারকা—এ নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে উত্তর আফ্রিকার দলটির আলোচনায় এখন আরেকটি নামও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি ১৮ বর্ষী স্ট্রাইকার হামজা আবদেলকরিম। ফুটবলবিশ্বের নজর কাড়া এই তরুণকে ঘিরেই নতুন স্বপ্ন দেখছে মিশর।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে হামজা বলেছেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলছি, মেসির বিপক্ষে নয়।’
বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের হয়ে একটি ম্যাচও খেলেননি হামজা। তবুও কোচ হোসাম হাসান তাকে সরাসরি বিশ্বকাপ দলে জায়গা দেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে আন্তর্জাতিক অভিষেকও হয়ে যায় তার। একই সঙ্গে মিশরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার কীর্তিও গড়েন তিনি।
নিজের স্বাভাবিক খেলার দর্শন নিয়েও স্পষ্ট হামজা। ইউরোপের সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘মাঠে নামার পর বাইরের কোন আলোচনা বা চাপ নয়, আমার পুরো মনোযোগ থাকে শুধু খেলায়। ম্যাচ উপভোগ করেই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।’
মিশরের গণমাধ্যম ইতোমধ্যে হামজাকে ‘নতুন সালাহ’ নামে ডাকতে শুরু করেছে। যদিও নিজের আদর্শ হিসেবে এখনো সালাহকেই দেখেন এই তরুণ। তার ভাষায়, সালাহ শুধু দলের অধিনায়ক নন, তরুণ ফুটবলারদের পথপ্রদর্শকও। নিজের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন এবং তার পাশে খেলতে পারাটা নিজের জন্য বড় সৌভাগ্যের বলে মনে করেন হামজা।
২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি কায়রোতে জন্ম নেয়া হামজার শৈশবের একটি অংশ কেটেছে মালয়েশিয়ায়, যেখানে তার বাবা ভলিবল কোচ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে দেশে ফিরে ২০২০ সালে আল আহলির যুব একাডেমিতে যোগ দেন। প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে দ্রুত মূল দলে জায়গা করে নেন এবং ১৭ বছর বয়সেই ক্লাবটির ইতিহাসে চলতি শতাব্দীর সর্বকনিষ্ঠ সিনিয়র ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েন।
অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবের নজরে আসেন হামজা। শেষপর্যন্ত চলতি বছর স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা তাকে প্রথমে ধারে দলে টানে। যুব দলে অভিষেক ম্যাচেই হেডে হ্যাটট্রিক করে আলোচনায় চলে আসেন তিনি। এরপর বার্সেলোনা বি দলের হয়ে ধারাবাহিক গোল করে স্থায়ী চুক্তিও নিশ্চিত করেন। ক্লাবটির প্রধান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, আগামী প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতেও হামজা তার পরিকল্পনার অংশ থাকবেন।



