স্টিফেন হকিংয়ের ৫০ বছরের পুরোনো তত্ত্বের পক্ষে মিলল নতুন প্রমাণ

স্টিফেন হকিংয়ের ৫০ বছরের পুরোনো তত্ত্বের পক্ষে মিলল নতুন প্রমাণ

মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ও বিস্ময়কর বস্তুর মধ্যে অন্যতম হলো ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর। এর মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এতটাই শক্তিশালী যে, একবার এর সীমার ভেতরে প্রবেশ করলে আলোও আর বেরিয়ে আসতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, কৃষ্ণগহ্বরের ভেতর থেকে কোনো কিছুই বাইরে আসতে পারে না।

স্টিফেন হকিংয়ের ৫০ বছরের পুরোনো তত্ত্বের পক্ষে মিলল নতুন প্রমাণ

তবে ১৯৭৪ সালে প্রখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী Stephen Hawking এই ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেন। তিনি প্রস্তাব করেন, কৃষ্ণগহ্বর সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় নয়; বরং সেখান থেকে অত্যন্ত ক্ষীণ এক ধরনের বিকিরণ নির্গত হতে পারে। এই বিকিরণ পরবর্তীতে ‘হকিং বিকিরণ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। তাঁর তত্ত্ব অনুযায়ী, এই বিকিরণের কারণে কৃষ্ণগহ্বর ধীরে ধীরে শক্তি হারায় এবং একসময় বিলীনও হয়ে যেতে পারে।

সম্প্রতি এই তত্ত্বের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। Paderborn University-এর গবেষক Lorenzo Procopio-এর নেতৃত্বে একটি গবেষক দল পরীক্ষাগারে আলোর সাহায্যে কৃষ্ণগহ্বরের অনুরূপ একটি পরিবেশ তৈরি করেন। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে Nature সাময়িকীতে।

বাস্তব কৃষ্ণগহ্বর থেকে নির্গত হকিং বিকিরণ অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় তা সরাসরি শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। এ কারণে গবেষকরা অপটিক্যাল ফাইবার এবং উচ্চগতির লেজার রশ্মি ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে কৃষ্ণগহ্বরের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন।

এই পরীক্ষায় তারা ‘ব্যাকরিঅ্যাকশন’ নামে পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবের প্রমাণ পান। এর অর্থ হলো, বিকিরণ নির্গত হওয়ার সময় কৃষ্ণগহ্বর নিজেও শক্তি হারায়। বিষয়টি বোঝাতে বিজ্ঞানীরা একটি সহজ উদাহরণ দিয়েছেন—রোলার স্কেট পরে দাঁড়িয়ে থাকা দুই ব্যক্তি একে অপরকে ধাক্কা দিলে দুজনই বিপরীত দিকে সরে যায়। একইভাবে, বিকিরণ শক্তি বহন করে বাইরে চলে গেলে কৃষ্ণগহ্বরও তার কিছু শক্তি হারায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, লেজার রশ্মির অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে এই শক্তি ক্ষয়ের প্রমাণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আগে ধারণা করা হতো, এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। কিন্তু নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এটি তুলনামূলকভাবে সরাসরি এবং প্রত্যাশার চেয়ে সহজভাবে সংঘটিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার কৃষ্ণগহ্বরের শক্তি ক্ষয়ের প্রক্রিয়া আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ করে দেবে। পাশাপাশি স্টিফেন হকিংয়ের বিখ্যাত ‘তথ্য-বৈপরীত্য’ (ইনফরমেশন প্যারাডক্স) সমস্যার সমাধানেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও প্রকৃত কৃষ্ণগহ্বরে এই প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা এখনো অত্যন্ত কঠিন, তবুও মহাবিশ্বের গভীরতম রহস্য উন্মোচনের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Scroll to Top