চ্যাং আর টাকি কি একই মাছ

চ্যাং আর টাকি কি একই মাছ

টাকি চিনবে কীভাবে

টাকি বাংলাদেশের প্রায় সব খাল-বিলে, পুকুরে, বাড়ির পাশের ডোবাতেও মেলে। অঞ্চলভেদে ডাকা হয় ল্যাটা, লাটি, ওকন বা চাইতান নামে। দেখতে শোল মাছের ছোট সংস্করণের মতো, মাথা চাপা, শরীর লম্বাটে আঁশে মোড়া। সাধারণ আকার ১৩ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি, কিন্তু কোনো কোনোটা বেড়ে সাড়ে ৩২ সেন্টিমিটার পর্যন্তও হয়ে যায়। গায়ের দুইপাশে হলদেটে আভা, পেটের দিকে দাগ স্পষ্ট।

মুখ বড়সড়, দাঁত ধারালো। শিকারি স্বভাব বলেই ছোট মাছের পোনা সামনে পেলে রেহাই দেয় না, নিজের প্রজাতির পোনাও খেয়ে নেয় কখনো কখনো। পুকুরে অন্য মাছের সঙ্গে একত্রে এদের চাষ চলে না, আলাদা পুকুরেই চাষ করতে হয়। বর্ষা আর প্রাক্‌-বর্ষায় প্রজনন শুরু হলে পুকুর বা খালের পাড়ের কাছে এক-দেড় মিটার গভীরে জলজ লতাপাতা দিয়ে বাসা বানিয়ে স্ত্রী মাছ ডিম পাড়ে, পুরুষ মাছ সেই ডিমের নিষেক করে। বাচ্চা ফোটার পর মা–বাবা দুজনই পাহারায় থাকে, পোনার ঝাঁক চলাফেরা করার সময় চারপাশে ঘুরে তাদের রক্ষা করে।

গলবিলের কাছে একটা অঙ্গ আছে এই মাছের, ফ্যারেঞ্জিয়াল ডাইভারটিকুলা নামে। এর সাহায্যে পানির বাইরে থেকেও বাতাসের অক্সিজেন টানতে পারে টাকি। পানি শুকিয়ে গেলে বা কাদায় আটকে গেলেও তাই বেশ অনেকক্ষণ বেঁচে থাকে, যা সাধারণ মাছের পক্ষে অসম্ভব।

চ্যাং কেন কম দেখা যায়

তেলোটাকি, রাগা, ঘাইরা বা গাচুয়া ইত্যাদি নামেও পরিচিত চ্যাং। ইংরেজি নাম Ceylon snakehead, আরেকটা নাম Walking snakehead, কারণ পানির বাইরে এরা একধরনের হাঁটার ভঙ্গিতে নড়াচড়া করতে পারে, যেন মাটির ওপর দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে। শরীরের সামনের দিক প্রায় চোঙাকৃতি, পেছনের দিকে গিয়ে চাপা হয়ে আসে। পাখনার কিনারায় কমলা রঙের একটা ছোঁয়া আছে, দাগ টানা। এ কমলা রংই দূর থেকে দেখেও চ্যাংকে আলাদা করার সবচেয়ে সহজ চিহ্ন।

টাকির চেয়ে আকারে ছোট চ্যাং, আর এখন বাংলাদেশের জলাশয়ে পাওয়া রীতিমতো কঠিন। ২০১২ সালের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে এ মাছকে সংরক্ষিত প্রাণীর তালিকায় রাখা হয়েছে, ধরা বা শিকার আইনত নিষেধ। টাকির ছবিটা ভিন্ন। আইইউসিএন বাংলাদেশের লাল তালিকায় এখনো বিপদের মুখে নেই বলে ধরা হয় এই মাছ, তাই খাল-বিলে আজও সহজেই মেলে এর দেখা।

Scroll to Top