জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে

জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আরেকটি বড় অঘটনের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে নাটকীয় টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে প্যারাগুয়ে। রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় পেনাল্টি শুটআউটে, যেখানে স্নায়ুর লড়াইয়ে জয়ী হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে

ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয়। জার্মানির শক্তিশালী আক্রমণভাগকে আটকে রেখে তারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে। দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়িয়ে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন জুলিও এনসিসো। তার গোলে বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে প্রত্যাশিতভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় জার্মানি। বিরতির মাত্র আট মিনিট পর কাই হাভার্টজ গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে ইউরোপের পরাশক্তিরা।

এক পর্যায়ে কর্নার থেকে জার্মানি বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের আগে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের ওপর ফাউল হয়েছিল। ফলে গোলটি বাতিল করে দেন ম্যাচ কর্মকর্তা।

নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল আর জয়ের গোল খুঁজে পায়নি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে শুরুতেই ধাক্কা খায় জার্মানি। দলের হয়ে প্রথম শট নিতে এসে ব্যর্থ হন কাই হাভার্টজ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত শটের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি জার্মানির জন্য এক তিক্ত অধ্যায়। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে টাইব্রেকারে এই প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এই ফলকে আরও বিস্ময়কর করে তুলেছে দুই দলের র‍্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে জার্মানির অবস্থান ছিল ১০ নম্বরে, আর প্যারাগুয়ে ছিল ৪১তম স্থানে। তাই ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন।

জার্মানিকে হারিয়ে প্যারাগুয়ে শুধু পরের ধাপেই ওঠেনি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নিজেদের নাম নতুন করে লিখেছে। ১৯৯৪ সালে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে জার্মানির বিদায় ছিল বড় চমক। তবে এবারের প্যারাগুয়ের জয় সেই স্মৃতিকেও নতুনভাবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও প্রমাণ হলো—ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

এই লেখাটির জন্য SEO শিরোনাম হতে পারে: **“টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল প্যারাগুয়ে”**।

Scroll to Top