শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়াতে বিষয়টি শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
রোববার (২১ জুন) পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে শিক্ষাব্যবস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষা কারিকুলামে শব্দদূষণ বিষয়ে পাঠ অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার বলেন, শব্দদূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি এটি জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫ জারির পর থেকে ডিএমপি ২৯ হাজার ৪৭৮টি মামলা করেছে এবং প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. লুৎফর রহমান। তিনি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত দেশের ৬৪ জেলার শব্দমাত্রা জরিপ প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। কর্মশালায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জনও তুলে ধরা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। প্রায় ৫৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকার এ প্রকল্পের আওতায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যভান্ডার তৈরি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৬টি কর্মশালা আয়োজন, ২ হাজার ৫০০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ৩০০টি সাউন্ড মিটার বিতরণ এবং দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়কের একটি অংশও নীরব এলাকার আওতায় আনা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ৬৪ জেলায় শব্দমাত্রা পরিমাপের জরিপ সম্পন্ন করে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে গবেষণা ও পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে।
কর্মশালায় পরিকল্পনা কমিশন, আইএমইডি, বিআরটিএ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




