
ব্রাসিলিয়া, ১৯ জুন – বিশ্বকাপ মানেই শুধু মাঠের ফুটবল নয়, বিশ্বকাপ মানে মাঠের বাইরের নানা রোমাঞ্চ আর উন্মাদনা! ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির অক্টোপাস ‘পল’ নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী করে বিশ্বজুড়ে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে ঠিক সেই ক্রেজ ফিরিয়ে এনেছে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো অ্যাকুয়ারিয়ামের একটি হাঙর। নাম তার ‘রিতিনিয়া’।
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ব্রাজিলের ড্রয়ের পূর্বাভাস দিয়ে আগেই লাইমলাইটে আসা এই লিওপার্ড প্রজাতির হাঙরটি এবার হাইতির বিপক্ষে সেলেসাওদের মহাগুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়েও এক চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী করেছে।
কীভাবে হলো এই ভাগ্য পরীক্ষা?
গত বৃহস্পতিবার রিও ডি জেনেইরো অ্যাকুয়ারিয়ামে ফুটবল ভক্ত ও সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে এক বিশেষ রোমাঞ্চকর আয়োজন করা হয়। অ্যাকুয়ারিয়ামের পানিতে হাঙর রিতিনিয়ার সামনে ব্রাজিল ও হাইতি— দুই দেশের পতাকা ও প্রতীকসংবলিত দুটি আলাদা খাবারের পাত্র বা বিকল্প রাখা হয়েছিল।
সেখানে জল কেটে একটুও সময় না নিয়ে রিতিনিয়া সোজা চলে যায় এবং বেছে নেয় ব্রাজিলের প্রতীকটি! আয়োজক এবং অ্যাকুয়ারিয়াম কর্তৃপক্ষের দাবি, রিতিনিয়ার এই সিদ্ধান্তের পরিষ্কার অর্থ হলো— আগামীকাল হাইতিকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের মুখ দেখবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নেরা।
কাগজে-কলমে কিংবা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে হাইতির চেয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ব্রাজিলের জন্য এই হাঙরের পূর্বাভাস নিঃসন্দেহে কোটি ভক্তকে স্বস্তি দিচ্ছে। কিন্তু ফুটবলারদের জন্য মাঠের লড়াইটা মোটেও সহজ হবে না। তা ছাড়া, প্রথম ম্যাচে রিতিনিয়ার অনুমান শতভাগ মেলেনি (কারণ ব্রাজিল ড্র করেছিল, জেতেনি), তাই অন্ধভক্তদের মনে কোথাও যেন একটা হালকা খটকা বা চিন্তার ভাঁজ থেকেই যাচ্ছে।
ফুটবল বিশ্বকাপে প্রাণীদের দিয়ে ম্যাচের ফল মেলানোর ইতিহাস বেশ পুরোনো ও জনপ্রিয়। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জার্মানির ওবেরহাউসেন অ্যাকুয়ারিয়ামের অক্টোপাস ‘পল’ একের পর এক ম্যাচের হুবহু ফল মিলিয়ে দিয়ে রাতারাতি বিশ্বসেরা সেলিব্রেটি বনে গিয়েছিল। রিও অ্যাকুয়ারিয়াম কর্তৃপক্ষও এবার রিতিনিয়াকে দিয়ে সেই উন্মাদনা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
আগামীকাল ফিলাডেলফিয়ার মাঠে কি সাম্বা ম্যাজিক ফিরবে? হাঙর রিতিনিয়ার এই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ কি সত্যি হবে নাকি হাইতি ঘটিয়ে দেবে ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন? আপনার কী মনে হয়— কমেন্টে জানান!
এনএন/ ১৯ জুন ২০২৬






