ওই প্রধান শিক্ষক বলেন, আগে কম শিক্ষার্থী থাকা বিদ্যালয়ও বছরে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা পেত। কিন্তু চলতি অর্থবছরে অনেক ক্ষেত্রে তা কমিয়ে ১৫ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। অথচ একটি বিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা পরিচালনা করতে প্রায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পত্রের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি ধার্য করার জন্য অনলাইনে মতামত আহ্বান করা হয়েছিল। তাতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীপ্রতি ২০ টাকা করে এবং তৃতীয় শ্রেণির জন্য ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির জন্য ৪০ টাকা ও পঞ্চম শ্রেণির ৫০ টাকা করে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে কোনো ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা ফি দিতে অসমর্থ হলে তার পরীক্ষার ফি মওকুফের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছিল। এখন তিনটি শ্রেণিতে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ সিদ্ধান্ত এসেছে এমন সময়ে, যখন সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বই ও উপবৃত্তি দিচ্ছে। ইউনিফর্ম, জুতা ও খাবার দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে। পাঠদান আধুনিক করতে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের কাজও চলছে।
নতুন বাজেটেও পুরো শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১.৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষাবিষয়ক দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় বাজেটের মধ্যেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার মতো ব্যয়ের জন্য কেন শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে?



