যুক্তরাষ্ট্রের ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র ঘিরে কেনিয়ায় বিক্ষোভ | চ্যানেল আই অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র ঘিরে কেনিয়ায় বিক্ষোভ | চ্যানেল আই অনলাইন

কেনিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর নানইউকিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নির্মাণাধীন একটি ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। আদালতের নির্দেশে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার দ্রুতগতিতে কেন্দ্রটি নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত ৫০ শয্যার এই কোয়ারেন্টাইন ইউনিটটি একটি বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে স্থাপন করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক কেনিয়ান নাগরিক। তাদের অভিযোগ, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি মোকাবিলার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র কেনিয়ার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

গত সপ্তাহে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেনিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলে নানইউকিতে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিলে অন্তত দুইজন নিহত এবং একজন আহত হন।

সর্বশেষ বিক্ষোভেও ছোট ছোট দলে বিভক্ত বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এ সময় এক বিক্ষোভকারীকে ইবোলাকে সম্মান করুন লেখা একটি সাদা ক্রস বহন করতে দেখা যায়।

গত ১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। কারণ, বিরল বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর জানা যায়, এটি কয়েক সপ্তাহ ধরে ডিআরসিতে ছড়িয়ে পড়ছিল এবং পরে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও সংক্রমণ ছড়িয়েছে।

ইবোলার তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচিত জাইরে ধরনের বিপরীতে বুন্ডিবুগিও ধরনের জন্য এখনও কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংক্রমণ শনাক্তে বিলম্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দাতাদের স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এ প্রাদুর্ভাব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র অধিকাংশ বৈদেশিক সহায়তা কমিয়ে দেয় এবং কার্যত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই ইবোলার সংক্রমিত রোগীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেবে না। ২০১৪-১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা মহামারির সময় অবশ্য আক্রান্ত কয়েকজন মার্কিন নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

নানইউকির এই কেন্দ্রটি মূলত এমন মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত, যারা ইবোলা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন কিন্তু এখনো কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে তাকে চিকিৎসার জন্য অন্য দেশে পাঠানো হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কূটনৈতিক সূত্র এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মার্কিন সামরিক বিমানগুলো নিয়মিতভাবে কর্মী ও সরঞ্জাম নানইউকিতে নিয়ে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেও কয়েকটি বিমান সেখানে অবতরণের কথা রয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ২৭ মে থেকে নানইউকির লাইকিপিয়া বিমানঘাঁটির একটি প্রায় ১১ একর জমিতে দ্রুতগতিতে সাদা রঙের অস্থায়ী তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা আদালতে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে অবগত এবং কেনিয়া সরকারের সঙ্গে কাজ করে আপত্তিগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে কেনিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, কেন্দ্রটি শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্য নয়, কেনিয়ান ও অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদেরও সেবা দিতে পারবে। তবে এ দাবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

Scroll to Top