তপুর জোড়া গোল, ইউরোপের মাটিতে অভিষেকেই জয় বাংলাদেশের | চ্যানেল আই অনলাইন

তপুর জোড়া গোল, ইউরোপের মাটিতে অভিষেকেই জয় বাংলাদেশের | চ্যানেল আই অনলাইন

সান মারিনোতে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। তেমনি জামাল ভূঁইয়াদের নতুন ফুটবল কোচ থমাস ডুলিরও অভিষেক ম্যাচ। ঐতিহাসিক ম্যাচে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও লিড ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে বিরতি থেকে ফিরে একের পর আক্রমণে কোণঠাসা করে রাখে স্বাগতিকদের। শেষপর্যন্ত তপু বর্মণের জোড়া গোলে জয় নিয়েই ফিরেছে লাল-সবুজ দল।

ইউরোপীয় দেশ সান মারিনোর অন্যতম শহর সেরাভেল্লেতে ‘সান মারিনো স্টেডিয়ামে’ বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টায় শুরু হওয়া ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে চৌধুরীরা।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে বক্সের ভিতরে বল পেয়ে জামাল ভূঁইয়ার লক্ষ্যে শট রক্ষণে বাধা পায়। এর দুই মিনিট পরেই তপু বর্মণের গোলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। ডান দিক থেকে শেখ মোরসালিনের মাপা ক্রসে তপু অন্য প্রান্তে বুদ্ধিদ্বীপ্ত হেডে জাল কাঁপান। গোলকিপার জায়গা থেকে ঝাঁপালেও গোল বাচাতে পারেননি।

তবে লিড ধরে রাখার আনন্দ স্থায়ী হয়েছে কেবল ১৪ মিনিট। ৩১ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ফিলিপ্পো বেরার্দির রক্ষণচেরা পাসে বল পেয়ে গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পরাস্ত করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান ফরোয়ার্ড নিকোলাস জিয়াকোপেত্তি।

এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময়টুকুতে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে দ্বিতীয় গোলের খোঁজে মরিয়া ছিল ডুলির শিষ্যরা। তবে সান মারিনোর রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখালে ১-১ গোলের সমতা নিয়েই প্রথমার্ধের বাঁশি বাজান রেফারি।

বিরতি থেকে ফেরার পর দ্বিতীয়ার্ধেও মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলতে থাকে। ৫৩ মিনিটে ফাহিমের নেয়া জোরালো শট গোলপোস্টে প্রতিহত হয়। এরপর ৫৬ থেকে ৬২ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশের রক্ষণে রীতিমতো ঝড় তোলে সান মারিনো। ৬১ মিনিটে লরেঞ্জো কাপিক্কিওনির বিপজ্জনক শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন মিতুল মারমা।

মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে ফেরাতে ৬৪ মিনিটে ফাহিমের বদলি হিসেবে ফাহামিদুল ইসলাম এবং রফিকুলের জায়গায় ডিফেন্ডার বিশ্বনাথকে নামান কোচ ডুলি। ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্ত।

৮৫ মিনিটে সাদ উদ্দিনকে ফাউল করে বসেন কাপিক্কিওনি। ৮৬ মিনিটে হামজা চৌধুরীর নেয়া সেই ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সে জটলার সৃষ্টি হয়। বদলি নামা বিশ্বনাথ ঘোষের শটে কপাল ছুঁয়ে দিয়ে আবারও বল জালে পাঠান তপু। বাংলাদেশের জার্সিতে এটি তার অষ্টম গোল।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তপুর এই গোলের পর সেরাফাল্লে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো বাংলাদেশি সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। স্বাগতিকদের মুহুর্মুহু চাপ আর ইউরোপীয় কন্ডিশন-সব বাধা জয় করে তপুর বীরত্বে ইউরোপের মাটিতে লাল-সবুজের পতাকা ওড়াল বাংলাদেশ।

Scroll to Top