
ওয়াশিংটন, ৫ জুন – ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে তাকে ভালো বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে শীঘ্রই একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
জবরদস্তিমূলক শ্রম ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে ভারতসহ বিশ্বের ৫৪টি দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মন্তব্য সামনে এল।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমরা খুব শীঘ্রই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। কারণ আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অনেক পছন্দ করি এবং তিনি আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন বন্ধু। আমাদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া ও দৃঢ় সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।
তবে এ সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, ভারত দীর্ঘ বছর ধরে মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নীতিমালার সুবিধা নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, তার বর্তমান প্রশাসন এই পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।
আলোচনায় মার্কিন মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হার্লে ডেভিডসনের উদাহরণ টেনে ট্রাম্প বলেন, অতীতে ভারত এই ব্র্যান্ডের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছিল। এর ফলে কোম্পানিটি দেশটিতে নিজস্ব কারখানা স্থাপন করতে বাধ্য হয়। বিপরীতে ভারতীয় মোটরবাইক মার্কিন বাজারে কোনো শুল্ক ছাড়াই বিক্রি হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন যে, এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করছে।
এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুই নেতার ফোনালাপের সময় একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছিল। সেখানে মার্কিন প্রশাসন ভারতের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে সম্মত হয়েছিল।
তবে গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ঢালাও শুল্ক নীতির বিপক্ষে রায় দিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প সব দেশের ওপর ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নতুন ঘোষণা প্রদান করেন। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেই দুই দেশ নতুন করে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করেছে।
ট্রাম্প জানান যে, অতীতের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা থাকা সত্ত্বেও তিনি বিশ্বাস করেন দুই দেশ শেষ পর্যন্ত একটি সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছাবে। তিনি দাবি করেন, বছরের পর বছর ভারত উচ্চ শুল্কের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সুবিধা নিলেও এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
বর্তমানে উভয় দেশই অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কাজ করছে। মোদীর সাথে তার ইতিবাচক ব্যক্তিগত সম্পর্ক একটি সফল চুক্তির পথে সহায়ক হবে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এনএন/ ৫ জুন ২০২৬






