ঢামেকে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন, পরিদর্শনে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম | চ্যানেল আই অনলাইন

ঢামেকে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন, পরিদর্শনে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম | চ্যানেল আই অনলাইন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সম্প্রতি সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে ব্রেইন-ডেড বা মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে অঙ্গ সংগ্রহ করে অন্য রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। হার্ট, লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও কর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গ এভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, জীবিত দাতার কাছ থেকে যেসব অঙ্গ সংগ্রহ করা যায় না, সেসব ক্ষেত্রে ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে আইনগতভাবে ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের সুযোগ থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ এখনও সীমিত। ২০২৩ সালে দেশে প্রথমবারের মতো ক্যাডাভারিক কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যেখানে ব্রেইন-ডেড রোগীর দান করা কিডনি দুইজন রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। তবে এখনও এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে ওঠেনি।

ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, সামাজিক ও ধর্মীয় ভুল ধারণা, জনসচেতনতার অভাব, হাসপাতালের সীমিত অবকাঠামো, আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা এবং জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ব্যবস্থার অভাব ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিস্তারে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে।

তবে নতুন ‘মানব অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. রফিকুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেন, ইমোশনাল ডোনার ও জাতীয় সোয়াপ রেজিস্ট্রি চালু করা গেলে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন আইন কঠোর নৈতিক মানদণ্ড বজায় রেখে অঙ্গদানের প্রচলিত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্মসূচি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং শেষ পর্যায়ের অঙ্গ বিকলতায় ভোগা রোগীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

Scroll to Top