
ঢাকা, ২ জুন – বিশ্বের শ্রমনীতি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ বৈশ্বিক ফোরামে এক বিশাল ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে (International Labour Conference – ILC) সর্বসম্মতিক্রমে সহ-সভাপতি (Vice-President) পদে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের এই অতিগুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষ নীতিনির্ধারণী পদে দায়িত্ব পালন করবেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভাবনীয় সাফল্যের খবরটি নিশ্চিত করেছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই বিশাল অর্জনকে দেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতির এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইএলও (ILO)-র এই আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনকে বিশ্বজুড়ে ‘বিশ্ব শ্রম সংসদ’ বা ‘World Parliament of Labour’ বলা হয়ে থাকে। প্রতি বছর বিশ্বের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকার, শ্রমিক এবং মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এখানে একত্রিত হয়ে শ্রম খাতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করেন।
এবারের ১১৪তম বৈশ্বিক সম্মেলনে প্রায় ৫ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।
এই বিশাল ও মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনে শীর্ষ পদের দায়িত্বে যারা থাকছেন:
সভাপতি: জুয়ান কাস্টিলো (উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী)।
সহ-সভাপতি (বাংলাদেশ): নাহিদা সোবহান (জেনেভায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি)।
অন্যান্য সহ-সভাপতি: জেরার্দো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা) এবং ক্রিস্টেন কফম্যান (যুক্তরাষ্ট্র)।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মোট ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে। কোনো রকম দ্বিমত ছাড়াই এই ১৮৭টি দেশের প্রতিনিধিদের ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ বাংলাদেশের এই বিজয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন কেবল একটি পদপ্রাপ্তি নয়; বরং বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাকে আরও গণতান্ত্রিক করার প্রচেষ্টা এবং দেশের নবনির্বাচিত সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর সমর্থন ও আস্থারই এক বড় বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে শোভন কর্মসংস্থান (Decent Work), সামাজিক ন্যায়বিচার ও শ্রমিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের নতুন সরকারের অঙ্গীকারকে বিশ্বমঞ্চ এখন ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে।
বিশ্বজুড়ে এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আসার ফলে কর্মসংস্থান ও শ্রম খাতের চ্যালেঞ্জগুলো প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার করতে এই পদটি বাংলাদেশকে এক বিশাল প্ল্যাটফর্ম দেবে।
সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণী ইস্যুতে আইএলও-র সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং বিভিন্ন অংশীজনদের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং নীতিনির্ধারণী ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় সরাসরি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শ্রম খাতের সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।
এনএন/ ২ জুন ২০২৬






