এআই বিপ্লবে বিদ্যুৎ সংকট, মহাকাশ সৌরশক্তির দিকে ইলন মাস্কের ঝোঁক

এআই বিপ্লবে বিদ্যুৎ সংকট, মহাকাশ সৌরশক্তির দিকে ইলন মাস্কের ঝোঁক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাড়তি চাহিদা পূরণের নতুন উপায় খুঁজছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তবে তাঁর সাম্প্রতিক পরিকল্পনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তিনি এখন পৃথিবীর সৌরবিদ্যুতের পরিবর্তে মহাকাশভিত্তিক সৌরশক্তির সম্ভাবনার দিকে নজর দিচ্ছেন।

এআই বিপ্লবে বিদ্যুৎ সংকট, মহাকাশ সৌরশক্তির দিকে ইলন মাস্কের ঝোঁক

একসময় বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সৌরশক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী ছিলেন মাস্ক। তাঁর প্রতিষ্ঠান টেসলা দীর্ঘদিন ধরে ‘সৌরবিদ্যুৎনির্ভর অর্থনীতি’ গড়ে তোলার কথা বলে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর আরেক প্রতিষ্ঠান এক্সএআই এআই ডেটা সেন্টার চালাতে প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত টারবাইন ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক্সএআই ইতোমধ্যে ডেটা সেন্টারের জন্য বিপুল পরিমাণ গ্যাস টারবাইন ব্যবহার করছে এবং ভবিষ্যতে প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, মাস্ক কি ধীরে ধীরে সৌরবিদ্যুৎ থেকে সরে যাচ্ছেন?

অন্যদিকে, মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স সম্প্রতি একটি নথিতে মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, পৃথিবীর তুলনায় মহাকাশে সৌরপ্যানেল থেকে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি শক্তি পাওয়া সম্ভব, কারণ সেখানে দিন-রাতের বাধা নেই এবং সূর্যের আলো সর্বদা পাওয়া যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপন করে সেখান থেকেই এআই পরিচালনার চিন্তা করছেন মাস্ক। এতে পৃথিবীতে জমি সংকট, পরিবেশগত বিধিনিষেধ ও স্থানীয় বিরোধিতার মতো সমস্যাগুলো কমে আসতে পারে।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ নয়। মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপন, সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা—সবই অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। পাশাপাশি মহাকাশে ব্যবহারের উপযোগী সৌরপ্যানেল তৈরিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এআইয়ের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বিশ্বের ডেটা সেন্টারগুলো প্রায় ৪০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, যা ভবিষ্যতে টেরাওয়াট পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

এই কারণেই মাস্ক দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে ঝুঁকছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুতের এখনো ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মহাকাশভিত্তিক প্রকল্পের পাশাপাশি পৃথিবীর পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে আরও বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত।

জুম বাংলা নিউজ

জুম বাংলা নিউজ

inews.zoombangla.com

অনুসরণ করুন

গুগলে জুম বাংলা নিউজ অনুসরণ করুন

আপনার গুগল নিউজ ফিডে জুম বাংলা নিউজ থেকে আরও আপডেট পেতে গুগল ফলো পৃষ্ঠাটি খুলুন এবং চেকমার্ক বিকল্পটি আলতো চাপুন।


গুগলে জুম বাংলা নিউজ অনুসরণ করুন

Scroll to Top