মাঝ নদীতে ছোট নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা নৌ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কোস্ট গার্ড। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এ ধরনের ওঠানামা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বাহিনীটি।

শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় কোস্ট গার্ডের টহল দলের এমন তৎপড়তা দেখা গেছে। সেখানে ঈদযাত্রার নিরাপত্তা প্রস্ততির কথা জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বাহিনীটি জানায়, বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাতে কেউ লঞ্চে ওঠানামা করতে না পারে সে বিষয়ে ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির মহাপরিচালক (ডিজি) রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেন, টহল দলগুলো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে, যাতে কেউ এ ধরনের অপচেষ্টা না করতে পারে। তবে শুধুমাত্র আমাদের পক্ষে এটি সম্পূর্ণ বন্ধ করা কঠিন। এজন্য যাত্রীদের ব্যক্তিগত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। ফলে চাহিদা না থাকলে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ঈদযাত্রায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নৌকা বা ট্রলার থেকে লঞ্চে যাত্রী ওঠার সময় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। সবশেষ গত রোজার ঈদেও এমন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক বলেন, তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোনো জায়গা থেকে লঞ্চে ওঠা বা নামা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লঞ্চের ভেতরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফেরিঘাট ও লঞ্চ ঘাটগুলোতে যাত্রী নিরাপত্তা তদারকি করা হচ্ছে। শুধুমাত্র সদরঘাটেই নয়, বরং সদরঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনা পর্যন্ত সমগ্র রুটেই কোস্ট গার্ডের পেট্রল বা টহল দল এবং বিভিন্ন স্টেশন ও আউটপোস্ট সক্রিয় রয়েছে।
ডিজি জিয়াউল হক আরও বলেন, এবারের ঈদে যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, আনসার এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ২৪ ঘণ্টা এই বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। উৎসবের এই সময়ে নদীপথে যাত্রী পরিবহনের বিশাল চাপের কথা মাথায় রেখে এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুবাহী ট্রলার বা লঞ্চের যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের পাশাপাশি পশু পরিবহনের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা বিবেচনা করে লঞ্চ মালিক ও চালকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং বৈরী আবহাওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।




