পৃথিবীতে থাকা ১৯৫ দেশের প্রায় সবাই ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে খেলার স্বপ্ন দেখে। তবে ভৌগলিকও কৌশলগত ফুটবল লড়াইয়ের চরাই-উতরাই পেরিয়ে চার বছর পর পর দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে জায়গা করে নেয়া শুধু কঠিনই নয়, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার। শিরোপা জেতার চাইতে অংশ নেয়াটাই যখন বড় তখন ২০২৬’র রেকর্ড বড় আসরে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ সুযোগ এনে দিয়েছে বেশ কিছু নতুন দলকে বিশ্ব দরবারে পরিচয় করিয়ে দেয়ার। এদের মধ্যে রয়েছে জর্ডান-কুরাসাও-কেপ ভার্দে এবং উজবেকিস্তানের মতো দেশের বিশ্বকাপ নিশ্চিতের ইতিহাস গড়া রূপকথার গল্প।
স্বাধীনতা পাবার পর এশিয়া অঞ্চল থেকে প্রথম এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন রাষ্ট্রের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেনের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়েছে উজবেকিস্তান। এশিয়ান কাপের নিয়মিত দলটি এরআগে ২০০৬ জার্মানি, ২০১৪ ব্রাজিলও ২০১৮ সালে রাশিয়া আসরের বাছাইয়ের কাছে গিয়েও স্বপ্নপূরণ করতে পারেনি। একাধিক ব্যার্থতাকে শক্তিতে পরিণত করে মধ্য এশিয়ার দেশটি ধাপে ধাপে ঘরোয়া লিগে ইউরোপিয়ান ছোঁয়া ও যুব দলে বিনিয়োগের ঐতিহাসিক সফলতা পায় ২০২৬ বিশ্বকাপে। উজবেকদের দলে রয়েছে ফরাসি লিগ মাতিয়ে ইপিএলের ম্যানসিটিতে যোগ দেয়া ডিফেন্ডার আবদুখোরি খুসানভ।
কোচ হিসেবে তাদের আছে ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ফ্যাবিও ক্যানাভারো। ‘কে’ গ্রুপে উজবেকিস্তানের সঙ্গী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল, কলোম্বিয়া এবং ডিয়ার কঙ্গোর মতো দেশ।
প্রায় ৪০ বছর আগে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে মধ্য প্রাচ্যের দেশ জর্ডান। বাছাইপর্বে সাউথ কোরিয়া ও ইরাকের পয়েন্টের লড়ইেয়ে বাজিমাত করে এশিয়ান কাপের রানার্সআপ হয়েছে জর্ডান। ২০১৮ সালে কোচিং করানো ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ কোচ হ্যারি রেডনাপের দেখানো পথে হেটে সাফল্য পেয়েছে এবার। রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইয়ে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ৮-০ গোলের বড় জয় পেলেও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫-১ গোলে হারে তারা। প্রথমবারের মতো মুলপর্বের টিকিট পেয়ে ‘জে’ গ্রুপে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার সাথে।
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের মাত্র ১৭১ বর্গমাইলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। সীমিত সম্পদ আর ছোট পরিসরের প্রায় দেড় লাখ জনসংখ্যার দেশ হয়েও ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে ইতিহাস করেছে বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্র দেশটি। ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে প্রায় ৩৭ মাইল দূরে অবস্থিত কুরাসাও ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিস ভেঙে যাওয়ার পর শাসিত দেশ হিসেবে পরিচয় পায় বিশ্ব দরবারে। ফুটবল অঙ্গনে কুরাসাওয়ের সাফল্যের কারিগর অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট।
৭৮ বর্ষী বিশ্বকাপে গিয়েও রেকর্ড গড়ছেন তিনি। সব শেষ জ্যামাইকার বিপক্ষে ড্র করে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে রূপকথার গল্প লিখেছে কুসারাও। ‘ই’ গ্রুপে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ছাড়াও তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আইভোরি কোস্ট ও ইকুয়েডরের সঙ্গে।
আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছয় লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে এসে গড়েছে নতুন ইতিহাস। ১৯৯০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে নিজেদের ফুটবল কাঠামো উন্নত করেছে দেশটি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী কেপ ভার্দের বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে যুক্ত করে সাফল্যে পেয়েছে বিশ্বকাপের স্বপ্নযাত্রায়। নেদারল্যান্ডসের ছয় ফুটবলারসহ আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেয়া ডিফেন্ডার রবার্তো লোপেসও খেলছেন কেপ ভার্দে। সৌদি আরবসহ দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন, উরুগুয়ের সঙ্গে ‘এইচ’ গ্রুপে তারা লড়বে মর্যাদার জন্য।





