
ঢাকা, ২০ মে – রাজধানীতে শিশু রামিশাকে নৃশংসভাবে হত্যাসহ সারা দেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী। সমাবেশ থেকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।”
বুধবার (২০ মে) বিকেলে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার শিশু রামিশা হত্যাকাণ্ডকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বর্বর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “রামিশা হত্যায় পুরো জাতি আজ গভীরভাবে ব্যথিত ও স্তম্ভিত হলেও আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন ব্যথিত নন! বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ করলেও, আমাদের মন্ত্রীরা কেবল অন্যের ওপর দায় চাপানোর রাজনীতি করেন।”
তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতের সরকারের ব্যর্থতার বুলি দিয়ে নিজেদের বর্তমান ব্যর্থতা ঢেকে রাখা যাবে না। মানুষের অস্তিত্বে আঘাত লাগলে সরকারের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে। জনগণের মতামত এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে জনগণের মনের গভীর প্রশ্নটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মানুষ আজ একটি প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাচ্ছে না—আমরা কি এখনো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের যুগে আছি নাকি নতুন বাংলাদেশে নতুন সরকারের অধীনে আছি? এত বড় একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা সরকারের সংশ্লিষ্ট কেউ নিহত শিশু রামিশার পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াননি।”
তিনি আরও জানান, জামায়াত নেতৃবৃন্দ ভুক্তভোগী পরিবারটির পাশে গেলে রামিশার বাবা বুকফাটা আর্তনাদ করে বলেছেন যে, রাষ্ট্র কর্তৃক তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার পাবেন বলে বিশ্বাস করেন না; কারণ অতীতেও কোনো ভুক্তভোগী পরিবার সঠিক বিচার পায়নি।
সমাবেশে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বড় রাজনৈতিক দলটির (বিএনপি) স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তীব্র সমালোচনা করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন,
- বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ৩ মাসের মধ্যে অনেক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
- প্রতিটি হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে।
- নারী-শিশু নিপীড়নের সমস্ত ঘটনা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে এনে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি’র সুনিপুণ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মোবারক হোসেন, অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং মাহফুজুর রহমান।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর মোড়ে এসে শেষ হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই বিশাল শো-ডাউন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি বর্তমান সরকারের ওপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করল।
এনএন/ ২০ মে ২০২৬






