আনসার-ভিডিপির হাত ধরেই প্রতিটি গ্রাম হবে উন্নয়নের কেন্দ্র: প্রধানমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

আনসার-ভিডিপির হাত ধরেই প্রতিটি গ্রাম হবে উন্নয়নের কেন্দ্র: প্রধানমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের দেশপ্রেম, সাহস ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি গ্রামকে আর্থসামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ (২০ মে) বুধবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ সমাজ গঠনে বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের এই অবদান দেশের অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো সংকট ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রয়োজনে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে আসছেন। বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাহিনীটি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এই যাত্রায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছেন সরকারপ্রধান।

বাণীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উক্তি  ‘আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাহিনীটির একটি শক্তিশালী যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে। গ্রাম ও শহরে নিরাপদ সমাজ গঠন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে আনসার-ভিডিপি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

পরিবেশ সুরক্ষা, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, বন্যা প্রতিরোধ, খাদ্য নিরাপত্তা ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনের মতো কার্যক্রমেও আনসার ও ভিডিপির ভূমিকা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মত দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সারা দেশে বিস্তৃত বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বর্তমানে ৫২ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।

তারুণ্যকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আনসার ও ভিডিপির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রশংসনীয়। কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতা তৈরির মাধ্যমে উৎপাদনমুখী রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে বাহিনীটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সবশেষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্ব পালনে বাহিনীর সাহসী ও কার্যকর ভূমিকার ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

Scroll to Top