ক্যাম্পাসে ‘মব সংস্কৃতি’ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ | চ্যানেল আই অনলাইন

ক্যাম্পাসে ‘মব সংস্কৃতি’ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ | চ্যানেল আই অনলাইন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে সহিংসতা, মব সংস্কৃতি, ভয়ের রাজনীতি ও বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার সংকোচন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আয়োজিত ‘অভ্যুত্থান-উত্তর বিশ্ববিদ্যালয়: সাম্প্রতিক বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলা হয়।

আলোচনায় অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর যে গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তার পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও নিপীড়নের সংস্কৃতি ফিরে এসেছে।

মূল বক্তব্যে বলা হয়, অতীতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘ভয়ের সংস্কৃতি’র কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। গণরুম-গেস্টরুমের মাধ্যমে ভিন্নমত দমন করে ক্যাম্পাসে এক ধরনের ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’ ভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল।

বক্তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে ‘মব সহিংসতা’কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ভাস্কর্য ভাঙচুর, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা, শিক্ষক হেনস্তা ও শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রেই জড়িতরা নিজেদের ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ বা ‘তৌহিদী জনতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

আলোচনায় দাবি করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বক্তারা আরও বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তার, দখলদারিত্ব ও সহিংসতা বেড়েছে। নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মব উসকে দেওয়া, শিক্ষকদের হেনস্তা এবং বিরোধী মত দমনের অভিযোগও তোলা হয়।

গোলটেবিল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ চলমান ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টাবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সিকদার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জারিন তাসমিন পুষ্পো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা আব্দুল কাদের। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নিয়ে ক্যাম্পাসে সহিংসতা, সাইবার বুলিং, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব এবং মতপ্রকাশের সংকুচিত পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

রুশাদ ফারিদি বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকেই ধর্মান্ধ ও সহিংস প্রবণতার উত্থান দেখা গেছে। অন্যদিকে কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তানজিমুদ্দিন খান, মারিয়া ভূইয়া, নির্নয় ইসলাম, কাজী মামুন হায়দার, ধীমান সরকার, নাসির আহমেদ এবং ওলিউর সান। গোলটেবিলটি সঞ্চালনা করেন সামিনা লুতফা।

Scroll to Top