মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী বুধবার বেইজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। সফরটিকে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আজ (১১ মে) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, ইরান ইস্যু, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বাণিজ্য সম্পর্ক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে।
হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ইরানের ওপর বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তেহরানকে শান্তি আলোচনায় রাজি করানোর চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, চীন যদি ইরানের কাছ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমায় এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা সীমিত করে, তাহলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগে আরও নমনীয় অবস্থান নিতে বাধ্য হতে পারে। এছাড়া বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিও গুরুত্ব পাবে।
বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরানের কাছে চীনের দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির বিষয়টি ট্রাম্প সরাসরি শি জিনপিংয়ের কাছে উত্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্কও সফরের আলোচ্যসূচিতে বড় জায়গা দখল করে আছে। দীর্ঘদিনের শুল্ক বা ট্যারিফ বিরোধ নিরসন এবং গত বছরের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য বিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে দুই দেশের মধ্যে।
একই সঙ্গে দ্রুত বিস্তার লাভ করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ঝুঁকি এবং সামরিক ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি যৌথ নীতিমালার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখবেন দুই নেতা। সফরের আনুষ্ঠানিক অংশ হিসেবে ট্রাম্প বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’ পরিদর্শন করবেন। এছাড়া বিশেষ চা-চক্র ও রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেওয়ার কথাও রয়েছে তার।





