
ওয়াশিংটন, ৭ মে – বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন উদ্যোগ সফল না হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন সম্মানজনক উপায়ে পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার পথ খুঁজছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তেহরানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে তাৎক্ষণিক কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকের মতে, চীন সফরের আগে ট্রাম্প একটি বড় সাফল্য অর্জন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় তিনি সফল হননি।
দারেইনি আরও অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় ইসরায়েলপন্থী লবিগুলো ট্রাম্পকে ভুল ধারণা দিয়েছিল। তাদের বিশ্বাস ছিল ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান আত্মসমর্পণ করবে। তবে ইরান নতি স্বীকার করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
ফলে এই এলাকায় চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। ওয়াশিংটন এই এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ালেও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের কঠোর অবস্থান এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে তেহরান বারবার বলছে যে কোনো হুমকির কাছে তারা মাথা নত করবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কূটনৈতিক সমাধানের পথে যাবে নাকি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এস এম/ ৭ মে ২০২৬






