
ঢাকা, ৭ মে – বাংলাদেশের প্রশাসনিক মানচিত্রে আজ এক বড় ধরনের পরিবর্তন এল। সরকার উত্তরবঙ্গের শিল্প ও বাণিজ্য নগরী বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ আরও গতিশীল করতে এবং জনসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে নিকার (NICAR)।
বর্তমানে দেশে ৮টি বিভাগের অধীনে মোট ১২টি সিটি করপোরেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আজ বগুড়া সিটি করপোরেশন অনুমোদিত হওয়ার মাধ্যমে এটি দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশনে পরিণত হলো। এর আগে ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ), চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করায় স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নত নাগরিক সুবিধা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় বিদ্যমান কয়েকটি বড় উপজেলাকে ভেঙে পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই উপজেলাগুলো হলো:
- মোকামতলা: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভাগ করে এই নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে।
- মাতামুহুরী: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে ভেঙে নতুন এই প্রশাসনিক ইউনিট করা হয়েছে।
- রুহিয়া ও ভুল্লী: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভাগ করে এই দুটি আলাদা উপজেলা গঠন করা হয়েছে।
- চন্দ্রগঞ্জ: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে ভেঙে এই নতুন উপজেলাটি গঠিত হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ মাদারীপুরের ডাসার, কক্সবাজারের ঈদগাঁও এবং সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা গঠন করা হয়েছিল। আজকের পাঁচটিসহ দেশে এখন মোট উপজেলার সংখ্যা দাঁড়াল ৫০০-তে।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় মাঠ প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ। ৪৯৫টি থেকে বেড়ে ৫০০টি উপজেলা হওয়ায় স্থানীয় সরকার কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে চকরিয়া বা লক্ষ্মীপুর সদরের মতো বড় এলাকার মানুষেরা এখন থেকে ঘরের কাছেই প্রশাসনিক সুবিধা পাবেন।
এনএন/ ৭ মে ২০২৬






