ছোট যে মাছ মৃত্যুর কারণ হতে পারে

ছোট যে মাছ মৃত্যুর কারণ হতে পারে

পাফারফিশ কি কতটা বিষাক্ত

পাফারফিশকে কেবল এর বলের মতো আকৃতির কারণে গিলে ফেলা কঠিন তা নয়, এদের গায়ে থাকা কাঁটাগুলোও শিকারিদের জন্য বড় বাধা। মাছটি যখন ফুলে ওঠে, তখন এর ত্বকের নিচের লুকানো কাঁটাগুলো শজারুর কাঁটার মতো বাইরে বেরিয়ে আসে। এই কাঁটাগুলো একদিকে যেমন মাছের ত্বককে মজবুত করে, অন্যদিকে শত্রুর মুখে বিঁধে গিয়ে এদের দূরে সরিয়ে রাখে।

পাফারফিশের সবচেয়ে মারাত্মক অস্ত্র হলো ‘টেট্রোডোটক্সিন’ বা সংক্ষেপে টিটিএক্স নামের একটি নিউরোটক্সিন। মাছটি নিজে এই বিষ তৈরি করে না। এদের খাওয়া খাবারের সঙ্গে থাকা বিশেষ কিছু ব্যাকটেরিয়া এই বিষ তৈরি করে, যা মাছের দেহে নিষ্ক্রিয়ভাবে জমা থাকে। একটি জিনগত পরিবর্তনের কারণে পাফারফিশের নিজের এই বিষে কোনো ক্ষতি হয় না, কিন্তু এটি অন্যদের জন্য বিষাক্ত। এই বিষ সবচেয়ে বেশি থাকে মাছের যকৃৎ, ডিম্বাশয়, ত্বক আর অন্ত্রে।

পাফারফিশের এই বিষ সায়ানাইডের চেয়েও হাজার গুণের বেশি শক্তিশালী। এটি সরাসরি আমাদের স্নায়ুকোষে আঘাত করে মস্তিষ্ক ও শরীরের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এই বিষক্রিয়ায় শুরুতে মুখ অবশ হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে শ্বাসপ্রশ্বাসের পেশিগুলো অকেজো হয়ে মানুষ মারা যেতে পারে। একটি পাফারফিশে যে পরিমাণ বিষ থাকে, তা দিয়ে অনায়াসেই ৩০ জন মানুষকে মেরে ফেলা সম্ভব। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, এই বিষের কোনো প্রতিষেধক বা অ্যান্টিডোট এখনো তৈরি হয়নি।

Scroll to Top