
ভুবনেশ্বর, ২ মে – ভারতের ওড়িশা রাজ্যের ময়ূরভঞ্জ জেলার ধীরাকুলা গ্রামে এক অভূতপূর্ব বীরত্বের ঘটনা ঘটেছে। একটি সাধারণ পথকুকুর নিজের জীবন বাজি রেখে প্রায় ৩০ জন স্কুলপড়ুয়া শিশুকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে। কালী নামের এই কুকুরটি একটি বিষধর সাপের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ লড়াই করে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত সপ্তাহের শুরুতে ধীরাকুলা গ্রামের শ্রী জগন্নাথ শিশু বিদ্যা মন্দিরের সামনে।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কিন্ডারগার্টেনের শিশুরা বিদ্যালয়ের খোলা প্রাঙ্গণে বসে ছিল। সেই সময় হঠাৎ একটি বিষধর সাপ শিশুদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। বিপদের পূর্বাভাস পেয়ে কালী দ্রুত সাপের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় এবং ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় এক অসম লড়াই। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সাপটি কালীকে বারবার দংশন করলেও সে পিছু হটেনি।
সাপের মরণকামড় সহ্য করেও কালী তাকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয়। তবে কিছুক্ষণ পরেই সাপের বিষে আক্রান্ত হয়ে বীর এই কুকুরটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কালীর এমন আত্মত্যাগে পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। গ্রামবাসী ও অভিভাবকরা জানান যে কালীর উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহস না থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
যে কুকুরটি এতদিন অবহেলায় গ্রাম ঘুরে বেড়াত, আজ সে সবার চোখে এক নিঃশব্দ অভিভাবক হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। কালীকে সম্মান জানাতে গ্রামের মানুষ একটি শোকযাত্রার আয়োজন করেন।
তাকে সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে এবং ফুল দিয়ে সাজিয়ে পূর্ণ সম্মানে সমাহিত করা হয়। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সবাই এই শোক মিছিলে অংশ নেয়। বর্তমানে ভারতে পথকুকুর নিয়ে নানা বিতর্কের মাঝে কালীর এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ পশু ও মানুষের সম্পর্কের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
এস এম/ ২ মে ২০২৬






