কানাডায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত এমপি ডলি বেগমের শপথ | চ্যানেল আই অনলাইন

কানাডায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত এমপি ডলি বেগমের শপথ | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক ডলি বেগম দেশটির ফেডারেল রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশী এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে শপথ নিলেন। টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি এ ইতিহাস গড়েন। এই জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

ডলি বেগম তার ফেসবুকে পোস্টে বলেন, “স্কারবরো সাউথওয়েস্ট-এর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পেরে আমি সম্মানিত।

কানাডার জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা একতা, জরুরি পদক্ষেপ এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দাবি রাখে। এটি এখন আমাদের মনোযোগ, দৃঢ় সংকল্প এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের দাবি জানাচ্ছে।

আমি অটোয়াতে এসেই সরাসরি কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমার মূল লক্ষ্য হলো স্কারবরো সাউথওয়েস্ট এবং পুরো কানাডার মানুষের জন্য কাজ করা।”

কানাডায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত এমপি ডলি বেগমের শপথ | চ্যানেল আই অনলাইন
ছবি: সংগৃহীত

সততার সাথে তিনি প্রথমদিন থেকেই অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে কমিউনিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর পক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলা এবং হাউস অফ কমন্স-এ কমিউনিটির কণ্ঠস্বর পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করবেন।

তিনি বলেন সামনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। আমি এই মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উল্লেখ্য, ডলি বেগম দীর্ঘদিন ধরে স্কারবরো এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।

ডলি বেগম এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে দেশটির অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের নির্বাচনে এমপিপি পদে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছিলেন গত বছর। তখন তিনি টরন্টোর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নির্বাচনী আসন থেকে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। এর আগে ডলি ২০১৮ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে প্রথম এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। কানাডার তিন স্তরের সরকার পদ্ধতির কোনো আইন পরিষদে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউ ডেমোক্র্যাট।

চলতি বছরের শুরুতে দীর্ঘদিনের লিবারেল দুর্গ হিসেবে পরিচিত স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নির্বাচনী আসনটি সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের বিদায়ের পর কার্যত শূন্য হওয়ায় ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির হয়ে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম।

ডলি বেগম নির্বাচনের পূর্বে তার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে লিবারেল দলে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত সাত বছর ধরে স্কারবরো সাউথ-ওয়েস্টের মানুষের জন্য লড়াই করেছি। তবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমার মনে হয়েছে, আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে আমি সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।’

তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং কানাডাকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি প্রস্তুত।

ডলি বেগমের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের মনু নদের পাড়ে। বাবা রাজা মিয়া এবং মা জবা বেগমের হাত ধরে মাত্র ১২ বছর বয়সে পাড়ি জমান কানাডায়। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে তিনি লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

Scroll to Top