
তেহরান, ২৭ এপ্রিল – মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ উপেক্ষা করেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে ইরান। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধের চেষ্টা চললেও বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে দেশটি। এতে করে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে। ট্যাংকার ট্র্যাকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরান সম্প্রতি তার রপ্তানি টার্মিনালগুলো থেকে অন্তত ৪৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।
বাজারমূল্যে যার পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি ডলার। এ ছাড়াও আরও ৪০ লাখ ব্যারেল তেল অবরোধের সীমা অতিক্রম করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, নজরদারি এড়াতে অনেক জাহাজ তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে যাতায়াত করছে, যা বাজারের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি শক্তিশালী একটি রপ্তানি ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধির যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, তা বর্তমানে স্তিমিত হয়ে পড়েছে। আগামী ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তার হার আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ক্রমাগত চাপ সত্ত্বেও ইরানের তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বাজারের অস্থিরতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। অন্যদিকে ভিয়েনায় নিযুক্ত রাশিয়ার দূত মিখাইল উলিয়ানভ যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছেন যে, বলপ্রয়োগের নীতি ইরানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। তিনি ওয়াশিংটনকে এই ধরনের জবরদস্তিমূলক আচরণ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হলে এর প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত তীব্র। ইরানের সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী ও বাব আল মান্দেব সহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর ওপর তাদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার অধীনে তেল মজুত বা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে দেশটি বড় ধরনের বিপদে পড়বে। এরই মধ্যে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে ওয়াশিংটনকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ একটি বৈঠকে বসতে পারেন বলে জানা গেছে।
এস এম/ ২৭ এপ্রিল ২০২৬






