ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম ‘বন্ধের পর্যায়ে’ | চ্যানেল আই অনলাইন

ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম ‘বন্ধের পর্যায়ে’ | চ্যানেল আই অনলাইন

অপরিশোধিত তেল সংকটে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সোমবার ১৩ এপ্রিল বিকালের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ক্রুড অয়েল আমদানি করতে না পারায় ইআরএলের পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধের পর্যায়ে যায় বলে জানিয়েছেন সেখানকার এক কর্মকর্তা।

তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলছেন, এটিকে পুরোপুরি বন্ধ বলা যাবে না, ডেড স্টক দিয়ে কার্যক্রম চালু রাখা আছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের কোনো চালান বাংলাদেশে আসেনি। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ দেশে আসে; সেই তেল দিয়ে ইআরএলে এতদিন শোধন প্রক্রিয়া চলছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে গত মার্চ মাসে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েলের চালান দেশে আসার কথা ছিল। তেলভর্তি জাহাজটি গত ৩ র্মাচ সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে দেশে আসার কথা থাকলেও তা আসতে পারেনি।

সরকার বিকল্প উপায়ে সৌদি আরামকোর কাছ থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল কেনার জন্য ঋণচুক্তি করেছে। আগামী মাসে সেটি দেশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন বিপিসির কর্মকর্তারা। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি। সেকারণে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েলের সংকট হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এখনো বন্ধ হয়নি, ডেড স্টক দিয়ে চালু আছে। তিনি বলেন, এটাকে বন্ধ বলা যাবে না। আমরা ইআরএল এর জ্বলানির ওপর নির্ভরশীল নই। নতুন করে ক্রুড অয়েল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। আমদানি করা পরিশোধিত তেলের মাধ্যমেই আমাদের চাহিদা মেটানো হয়। দেশে জ্বালানি তেলের এখনো কোনো সংকট নেই।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একটি কোম্পানি। জানতে চাইলে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইআরএলে উৎপাদন বন্ধ হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচটি উৎপাদন ইউনিটের দুটি বন্ধ রয়েছে। বাকি তিনটি চালু রয়েছে। তিনি বলেন, এসব ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে ১২০ টন পেট্রল ও ১০০ টন ডিজেল উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে। ইআরএলে থাকা ক্রুড দিয়ে উৎপাদন আরও কিছুদিন চলবে।

তবে তা দিয়ে বেশিদিন চলবে না জানিয়ে মোরশেদ হোসাইন বলেন, ডেড স্টকে থাকা কিছু ক্রুড অয়েল এবং ন্যাফথা (ক্রুড অয়েল পরিশোধনের সময় উপজাত হিসেবে মেলে) দিয়ে এ কার্যক্রম চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইআরএল বন্ধ হলেও দেশে জ্বালানি তেলের সাপ্লাই চেইন বন্ধ হবে না। আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে পরিশোধিত তেল সংগ্রহ করছি। মঙ্গলবার রাতেই ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় আসবে। পরবর্তী সময়ে আরও দুটি জাহাজ আসবে।

Scroll to Top