যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিত ঘিরে বৈশ্বিক তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা কমে আসায় মঙ্গলবার এশিয়ার প্রারম্ভিক লেনদেনে তেলের দাম নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৯৬ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন মার্কিন সামরিক বাহিনীর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দর এলাকায় অবরোধ আরোপ করলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অবরোধ গালফ অব ওমান ও আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জাহাজ রুট পরিবর্তন করেছে বলে জানা গেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সময়ে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার সম্ভাবনা ঘিরে তৈরি হওয়া প্রত্যাশা বাজারে উত্তাপ কিছুটা কমিয়েছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সমঝোতার ইঙ্গিতই তেলের বাজারের চাপ কিছুটা প্রশমিত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল সরবরাহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংকট হলে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৪০ লাখ ব্যারেল সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য আপাতত দামকে উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখলেও বড় ধরনের সংঘাত না হলেও বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে ওপেক তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক তেলের চাহিদার পূর্বাভাস দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল কমিয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জ্বালানি মজুত বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা সৃষ্টি করতে পারে।




