হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ হুমকি এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এক ব্যতিক্রমী গাণিতিক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন।
আজ (১৩ এপ্রিল) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর দ্রুত অবরোধ আরোপ করা হবে। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করে পোস্ট দেন।
ট্রাম্প বলেন, “ইরানের বন্দরগুলো লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ কার্যকর করা হবে।” জবাবে গালিবফ হোয়াইট হাউসের আশপাশে জ্বালানি তেলের দামের ছবি শেয়ার করে বলেন, “বর্তমান দাম উপভোগ করুন, কারণ কথিত অবরোধের পর ৪ থেকে ৫ ডলারের গ্যাসের সময়কে আপনারা মিস করবেন।”
তিনি আরও একটি গাণিতিক সমীকরণ পোস্ট করেন “f(f(O))>f(O)” যার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, হরমুজ সংকটের প্রভাব সরাসরি না হয়ে বহুস্তরীয়ভাবে জ্বালানি বাজারে দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি করবে।
এই সমীকরণে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে প্রথমে দাম বাড়বে এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সেই দাম আরও বাড়বে, ফলে একটি ধারাবাহিক মূল্যস্ফীতি তৈরি হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অবরোধ কার্যকর করা হবে এবং ইরানের সব বন্দরের দিকে যাতায়াত করা জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে, তবে ইরান ছাড়া অন্যান্য বন্দরের মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলো প্রণালী অতিক্রম করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা না হওয়ায় দুই পক্ষই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।




