ব্রেকআউট নেশন লক্ষ্য: বিনিয়োগ ও কূটনীতিতে জোর | চ্যানেল আই অনলাইন

ব্রেকআউট নেশন লক্ষ্য: বিনিয়োগ ও কূটনীতিতে জোর | চ্যানেল আই অনলাইন
কূটনীতি জোরদার, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা গভীর করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বপারোপ করছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।  আর্থিক খাতে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত এই ব্যক্তি সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার) হিসেবে নিযুক্ত হন।

নতুন এই ভূমিকায় তানভীর গনি বাংলাদেশ এবং বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগের ব্যবধান কমিয়ে আনতে কাজ করবেন।

তিনি এমন এক সময় এই দায়িত্ব নিয়েছেন যখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ডিজেলসহ অন্যান্য তেল আমাদানিতে বিশেষ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
একই সঙ্গে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিসহ প্রবাসী কর্মীদের কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কার কথা বলছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, যুদ্ধের এই অভিঘাতে দেশের জিডিপি এক শতাংশের বেশি ক্ষতির ‍মুখে পড়তে পারে।
এ ধরনের সংকটময় পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এবং কৌশলগত পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তানভীর গনি।
তিনি বলছেন, বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, নীতিমালার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখবেন। তার কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশকে উচ্চমানের প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) একটি প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (বিডা) অন্যান্য প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা।বাংলাদেশ যখন একটি ‘ব্রেকআউট নেশন’ বা উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তানভীর গনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগকে পেশাদারিকরণ এবং প্রথাগত খাতের বাইরে বিনিয়োগের বহুমুখীকরণে মনোনিবেশ করবেন।

তার দায়িত্বগুলোর মধ্যে থাকবে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, আর্থিক পরিকল্পনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে পুঁজিবাজারকে আরও গভীর করতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো।

এ বিষয়ে তানভীর গনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‌বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে। ‘ব্রেকআউট নেশন’ হতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষতা ও বৈশ্বিক আস্থা অর্জন জরুরি। স্বচ্ছতা, ধারাবাহিক নীতি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে শক্ত যোগাযোগের মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

ব্রেকআউট নেশন কী

ব্রেকআউট নেশন বলতে এমন একটি দেশকে বোঝায়, যা দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা—যেমন ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশ বা প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাকে অতিক্রম করে হঠাৎ করে দ্রুত উন্নয়ন ও বৈশ্বিক গুরুত্ব অর্জনের পথে এগিয়ে যায়।

সহজভাবে বললে যে দেশ “সম্ভাবনার” পর্যায় থেকে বের হয়ে বাস্তবে দ্রুত অগ্রগতি দেখাতে শুরু করে—সেটিই ব্রেকআউট নেশন। ব্রেক আউট নেশনের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শক্তিশালী নীতি ও প্রতিষ্ঠান, বৈশ্বিক বাজারে আস্থা তৈরি, নতুন খাতে (টেক, শিল্প, সেবা) বিস্তার।

বাংলাদেশকে ‘ব্রেকআউট নেশন’ বলা হয় তখনই, যখন দেশটি টেকসই উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও বৈশ্বিক আস্থার মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।

Scroll to Top