যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এখন দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানে বাংলাদেশ। পাল্টা শুল্কের কারণে চীনের রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের এই উত্থান। যদিও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৮ শতাংশের মতো।
চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনকে টপকে বাংলাদেশের শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম রয়েছে শীর্ষ স্থানে। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া ও ভারত।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ কম।
রোববার ৫ এপ্রিল অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ২৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ স্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। এই সময়ে তাদের রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ ছাড়া জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। যদিও গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছিল ১৫০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। সেই হিসাবে এবার রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ।
এদিকে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীন রপ্তানি করেছে ১১৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। গত বছরের একই সময়ে তাদের তৈরি পোশাক রপ্তানি ছিল ২৭৭ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এবার রপ্তানি কমেছে ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ও চীনের রপ্তানি কমলেও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ইন্দোনেশিয়া ৮১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি।
অবশ্য ভারতের রপ্তানি কমে গেছে পৌনে ২৪ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ভারত ৭২ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে তাদের রপ্তানি ছিল ৯৬ কোটি ডলার। গত বছরের ২ এপ্রিল বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তিন মাসের জন্য স্থগিত হয়। এরপর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। শুরুতে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক থাকলেও ৮ জুলাই সেটি কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায় বাংলাদেশ। তাতে পাল্টা শুল্ক কমে ২০ শতাংশে দাঁড়ায়। গত ৭ আগস্ট পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়।
পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করে ৯ ফেব্রুয়ারি। সে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর দেশটির পাল্টা শুল্কের হার কমে হয় ১৯ শতাংশ। দুই সপ্তাহ পার না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মাথায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরদিন তা আরও বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নতুন শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।
পাল্টা শুল্কের প্রস্তাবে শুরুতে বেকায়দায় থাকলেও পরে প্রতিযোগী দেশের তুলনায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছায় বাংলাদেশ। তার কারণ, বাংলাদেশের মতো ভিয়েতনামের শুল্ক ছিল ২০ শতাংশ। তার বিপরীতে ভারতের পণ্যে মোট শুল্কহার ৫০ শতাংশ। চীনের শুল্ক আরও বেশি। ফলে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, জুতাসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্রয়াদেশ বাড়তে থাকে। তবে পরে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি।





